newsbazar24 :
ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে তুলেছেন মালদহের হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচন্ডী অঞ্চলের মধ্যমকেন্দুয়ার বাসিন্দা এক মুসলিম মহিলা — শেফালী বেওয়া। প্রায় চার দশক ধরে স্বপ্নাদেশে পাওয়া নির্দেশে তিনি মা কালীর আরাধনা করে আসছেন। তাঁর হাতেই আজ অনুষ্ঠিত হয় এলাকার জনপ্রিয় “শেফালী কালীপুজো”, যা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
প্রায় চল্লিশ বছর আগে নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন শেফালী বেওয়া। স্থানীয় চিকিৎসা বা কবিরাজ কেউই তাঁর রোগ সারাতে পারেননি। সেই সময় এক রাতে তিনি স্বপ্নে দেখেন, মা কালী তাঁকে আরাধনার নির্দেশ দিচ্ছেন। স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী মা কালীর পুজো শুরু করলে তাঁর অসুখ সেরে যায় বলে জানান গ্রামবাসীরা। প্রথমে অনেকে সন্দেহ করলেও, পরবর্তীতে গ্রামের মানুষ নিজেরাই এই পুজোয় যুক্ত হয়ে যান।
আজও সেই পুজো চলে আসছে সমান ভক্তি ও ভক্তসমাবেশে। দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন এই সম্প্রীতির পুজো দেখতে। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলে অংশগ্রহণ করেন এই উৎসবে। গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করেন, কারও অসুখ বা দুঃখে শেফালী দেবীর শরীরে মা কালী ভর করে তাঁদের সমস্যার সমাধান দেন।
এলাকার মানুষের উদ্যোগে এখন পুজোটি আরও বৃহৎ আকার নিয়েছে। আগের তুলনায় এখন প্রতিমা ও প্যান্ডেল অনেক সুন্দরভাবে তৈরি করা হয়। আসন্ন কালীপুজো উপলক্ষে ইতিমধ্যেই গ্রামে চলছে প্রস্তুতি। মধ্যমকেন্দুয়ার এই “শেফালী কালীপুজো” এখন মালদহ জেলায় ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মানিকোড়া ডাকাত কালীপুজো: মশালের আলোয় আজও অটুট প্রাচীন রীতি
গ্রামবাসীদের মতে, কারও অসুখ বা সমস্যায় এখনো তাঁরা শেফালী দেবীর কাছে যান। বিশ্বাস, তাঁর শরীরে মা কালী ভর করে দিশা দেন ভক্তদের। পুজোর সময় হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেন। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে দর্শন নেন ‘শেফালী কালী’-র।
ভূত চতুর্দশী মানে কী? চোদ্দো শাক ও চোদ্দো প্রদীপের রহস্য জানুন
এলাকার মানুষ বলেন, “এই পুজো আমাদের মিলনমেলা। মা কালী সকলের মা।”
আসন্ন কালীপুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চলছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। ভক্তদের ভিড়ে আবারও মুখরিত হবে মালদহের মধ্যমকেন্দুয়া।






