নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক ঃ বর্ষীয়ান রাজনীতিক মুকুল রায় আর নেই। রবিবার গভীর রাতে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন এই অভিজ্ঞ নেতা। শারীরিক কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও রাজনৈতিক মহলে তাঁর উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট।
মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টে তাঁকে নিজের “দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী” ও “সংগ্রামের সহযোদ্ধা” বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
মমতা লেখেন, “প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে।”
তিনি আরও লেখেন, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা-লগ্ন থেকে দলের জন্য প্রাণপাত করেছিলেন মুকুল রায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। রাজনৈতিক মতভেদ ও দলবদলের প্রসঙ্গও উঠে আসে পোস্টে— “পরে তিনি ভিন্ন পথে যান, আবার ফিরেও আসেন। বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অবদান এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা ভোলার নয়।” মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “মন শক্ত করো। এই সংকটে আমরা তোমার সঙ্গে আছি।”
আরও পড়ুন-নজিরবিহীন রায় কলকাতা হাইকোর্টের, উচ্চশিক্ষিতা মা নন—মাছ ব্যবসায়ী বাবার হাতেই সন্তানের কাস্টডি
রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন
ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু। ছাত্র পরিষদ, যুব কংগ্রেস ও কংগ্রেসের রাজনীতির পর মমতা ব্যানার্জির হাত ধরেই নতুন পথচলা। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কাঁচড়াপাড়ার এই নেতা। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন দলের ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক থেকে রাজ্যসভার সাংসদ—দলের ভিত শক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। পরে ২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন বিজেপিতে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হন। তবে নির্বাচনের পরেই ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন—যা রাজনৈতিক মহলে বড় চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে।
দলত্যাগ বিরোধী আইন নিয়ে আইনি লড়াইও কম হয়নি। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়।
শেষ কথা
বাংলার রাজনীতিতে মুকুল রায় ছিলেন এক বর্ণময় চরিত্র—কখনও কৌশলী সংগঠক, কখনও বিতর্কের কেন্দ্রে। দলমত নির্বিশেষে তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছে রাজনৈতিক মহল। এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।





