নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই মালদার মোথাবাড়ি বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। একের পর এক দলবদলের ঘটনায় কার্যত রক্তক্ষরণ অব্যাহত কংগ্রেসে, পাশাপাশি ভাঙন ধরেছে বিজেপিতেও। কালিয়াচক–২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির এক কংগ্রেস সদস্য, একাধিক বিজেপি নেতা ও দুই দলের মিলিয়ে প্রায় শতাধিক কর্মী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন।
মোথাবাড়ি বিধানসভার রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এই যোগদান কর্মসূচি ঘিরে যথেষ্ট রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যোগদানকারীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর নবাগত কর্মীদের অনেকেই বলেন, কংগ্রেস ও বিজেপিতে থেকে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছিল। সেই কারণেই তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উত্তর পঞ্চানন্দপুরের পর এবার রাজনগরেও ভাঙন
এর আগেই মোথাবাড়ির উত্তর পঞ্চানন্দপুর এলাকায় কংগ্রেস ও বিজেপিতে বড়সড় ভাঙন দেখা গিয়েছিল। এবার সেই ধারাবাহিকতায় রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতেও একই ছবি। পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্যের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরের একাধিক বিজেপি নেতা ও কর্মী দল ছেড়ে শাসক শিবিরে যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুন-পলাশীপাড়ায় মানবিক উদ্যোগ: চক্ষু শিবিরে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন শতাধিক প্রবীণ
কংগ্রেসের পাল্টা দাবি
যদিও এই দলবদলকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ কংগ্রেস নেতৃত্ব। মালদা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সায়েম চৌধুরী বলেন,এই দলবদলে কংগ্রেসের কোনও ক্ষতি হবে না। যারা দল ছাড়ছেন, তাঁরা ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতেই যাচ্ছেন। মানুষের সমর্থন কংগ্রেসের সঙ্গেই রয়েছে। মন্ত্রীর পায়ের তলায় মাটি নেই বলেই এই ধরনের দলবদলের নাটক চলছে।
বিজেপির অভিযোগ: ভয় ও টাকার লোভ
এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভয় দেখিয়ে ও টাকার লোভ দেখিয়ে দলবদল করানো হচ্ছে। বাস্তব চিত্র একেবারেই আলাদা। প্রতিদিন তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেস ও বিজেপিতে মানুষ যোগ দিচ্ছেন। উনি হয়তো সেই খবর রাখেন না। ২৬ তারিখে ভোটের দিনই আসল চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে।
রাজনৈতিক মহলের মূল্যায়ন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোথাবাড়ি এলাকায় একের পর এক দলবদল শাসক দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ালেও বিরোধী দলগুলির মধ্যে পাল্টা বক্তব্য ও অভিযোগের রাজনীতি আরও তীব্র হচ্ছে। ভোট যত কাছে আসছে, ততই দলবদল, পাল্টা দোষারোপ এবং শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি আরও জোরদার হবে বলেই মনে করছেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে মোথাবাড়ি বিধানসভা এলাকা এখন কার্যত রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে। এই দলবদলের প্রভাব ভোটের বাক্সে কতটা পড়ে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।



