মালদার ঘটনা নিয়ে সরব প্রধানমন্ত্রী
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , কোচবিহার: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে উঠতেই সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার কোচবিহারের রাসমেলার মাঠের ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে নাম না করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন তিনি। বিশেষ করে মালদার মোথাবাড়িতে বিচারকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি নিয়ে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী।
মালদার ঘটনা নিয়ে সরব প্রধানমন্ত্রী
এদিন কোচবিহারের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মালদার মোথাবাড়িতে যেভাবে বিচারকদের ওপর হামলা হয়েছে এবং তাঁদের বন্দি করে রাখা হয়েছিল, তা প্রমাণ করে বাংলায় তৃণমূলের ‘মহা জঙ্গলরাজ’ চলছে। এরা সংবিধান মানে না, এরা দেশের সর্বোচ্চ আদালতকেও তোয়াক্কা করে না। যেখানে বিচারকরাই সুরক্ষিত নন, সেখানে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা কোথায়?” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ঘটনায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতও ধিক্কার জানিয়েছে।
আরও পড়ুন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা ঢাকতেই কি মালদা নিয়ে বিভ্রান্তি? শাহকে পাল্টা তুলোধোনা সেলিমের
দুর্নীতি ও ‘সিন্ডিকেট’ তোপ
বিগত কয়েক বছরের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, “এত বছর ধরে বাংলার মানুষের হকের পয়সা লুঠ করা হয়েছে। সব দুর্নীতিবাজদের এই টাকা ফেরত দিতে হবে।” রাজ্যে তৃণমূলের ‘কাটমানি’ ও ‘সিন্ডিকেট’ রাজের বিপরীতে বিজেপির ‘বিকাশ’ ও ‘সুশাসনের’ গ্যারান্টি দেন তিনি। মোদির কথায়, “টিএমসির পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। এবার পাল্টানোর সময় এসেছে।”
সন্দেশখালি ও নারী সুরক্ষা
নারী সুরক্ষা ইস্যুতেও শাসক দলকে বিঁধতে ছাড়েননি প্রধানমন্ত্রী। সন্দেশখালির ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একদিকে সন্দেশখালিতে মহিলাদের ওপর অত্যাচার হয়েছে, অন্যদিকে সেই অত্যাচার রুখতে মোদির গ্যারান্টি রয়েছে। বিজেপি জেতার পর মহিলারা সঠিক বিচার পাবেন।”
অনুপ্রবেশ ও উন্নয়ন
উত্তরবঙ্গের এই গুরুত্বপূর্ণ সভা থেকে অনুপ্রবেশকারী সমস্যা নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। বিজেপির সংকল্প হিসেবে সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের সরানোর কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রের পাঠানো উন্নয়নের টাকা বা সুযোগ-সুবিধা বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছাতে দিচ্ছে না রাজ্য সরকার।
ভোটের দিন ভয় না পাওয়ার আহ্বান
আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন। সেই প্রসঙ্গে ভোটারদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডারা যতই ভয় দেখাক, আপনারা আইনের সাহায্য নিন। এবার ভোটে ভয় পালাবে আর বিজেপি জিতবে। ৪ মে-র পর আইন নিজের কাজ করবে এবং সব পাপের হিসেব নেওয়া হবে।”
ব্রিগেডের সভার পর কোচবিহারের এই জনসমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যত বাংলায় পরিবর্তনের ডাক দিলেন। এদিন হাসিমারা থেকে কোচবিহারে পৌঁছান তিনি। প্রথম দফার নির্বাচনের আগে মোদির এই সফর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।





