পাশে মালদা জেলা ক্রীড়া সংস্থা, খরচ বহন করলেন কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক ঃ মালদা তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের নাম উজ্জ্বল করল এক সংগ্রামী কন্যা। রেলের হকারের মেয়ে মিষ্টি কর্মকার জাতীয় স্তরের অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে সকলের নজর কেড়েছে। পাঞ্জাবের পাতিয়ালায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম ওপেন থ্রো প্রতিযোগিতায় জ্যাভলিন থ্রো ইভেন্টে ৪৫.৩৫ মিটার দূরত্বে বর্শা নিক্ষেপ করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে রৌপ্য পদক জিতেছে সে।
রবিবার পাতিয়ালার স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI)-এর প্রধান ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিভাবান অ্যাথলিটরা অংশ নেন। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই নিজের সেরাটা দিয়ে নজর কেড়েছে মালদার এই তরুণী অ্যাথলিট।
চোটের ধাক্কা কাটিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
মিষ্টির কোচ অসিত পাল জানান, গত বছরই ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে বাহারিনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান যুব গেমস-এ জ্যাভলিন থ্রো ইভেন্টে অংশ নিয়েছিল মিষ্টি। কিন্তু প্রতিযোগিতা চলাকালীন চোট পাওয়ায় সে তার সেরাটা দিতে পারেনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কলকাতার সাই ক্যাম্পে ফিজিওথেরাপিস্টদের তত্ত্বাবধানে তার রিহ্যাবিলিটেশন ও অনুশীলন চলছিল।
চোট থেকে ধীরে ধীরে সেরে উঠে সম্প্রতি আবার অনুশীলন শুরু করে মিষ্টি। মাত্র দুই দিন নিয়মিত প্র্যাকটিস করার পরেই পাতিয়ালার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৪৫.৩৫ মিটার থ্রো করে রৌপ্য পদক জিতে সকলকে অবাক করে দিয়েছে সে।
আরও পড়ুন-ভারতের একতরফা বিশ্বকাপ জয়ে কটাক্ষ শোয়েব আখতারের, কী বললেন পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার?
আর্থিক প্রতিকূলতার মাঝেও অদম্য লড়াই
মিষ্টির পরিবার আর্থিকভাবে খুবই সাধারণ। তার বাবা রেলের হকার এবং মা গৃহবধূ। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই পরিবারের সমর্থন ও নিজের অদম্য জেদের জোরে এগিয়ে চলেছে মিষ্টি। মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই সে মনোযোগ দেয় অ্যাথলেটিক্সে। কঠোর পরিশ্রম আর নিয়মিত অনুশীলনের ফলেই আজ জাতীয় স্তরে এই সাফল্য।
পাশে জেলা ক্রীড়া সংস্থা
মিষ্টির কোচ অসিত পাল জানান, পাঞ্জাবে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য যাতায়াতসহ সমস্ত খরচ বহন করেছে মালদা জেলা ক্রীড়া সংস্থা।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী বলেন,
“মিষ্টির মধ্যে অসাধারণ প্রতিভা ও দক্ষতা রয়েছে। ভবিষ্যতে সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে বলে আমরা আশাবাদী। জেলা ক্রীড়া সংস্থা সবসময় তার পাশে রয়েছে এবং আগামীতেও থাকবে।”
এবার লক্ষ্য জাতীয় জুনিয়র ফেডারেশন কাপ
এই সাফল্যের পর মিষ্টির পরবর্তী লক্ষ্য জাতীয় জুনিয়র ফেডারেশন কাপ অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা। নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করে দেশের হয়ে বড় মঞ্চে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখছে মালদার এই প্রতিভাবান কন্যা।
অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের সমর্থন—এই তিনের সমন্বয়েই মিষ্টি কর্মকার আজ মালদা তথা বাংলার গর্ব হয়ে উঠেছে। তার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া বইছে জেলা জুড়ে।





