কালিয়াচকের মাটি থেকে জাতীয় সোনা
স্বপ্ন ছোঁয়ার উড়ান! জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে সোনা জিতল মালদহের কিশোর মেহেবুবুল, লক্ষ্য এবার দেশের জার্সি
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , মালদহ: খেলার দুনিয়ায় ফের উজ্জ্বল মালদহের নাম। প্রতিকূলতাকে জয় করে জাতীয় স্তরের অ্যাথলেটিক্সে সোনার পদক ছিনিয়ে নিল কালিয়াচকের প্রতিভাবান কিশোর মেহেবুবুল আহম্মেদ। দিল্লিতে আয়োজিত ‘স্টেট ওপেন অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ ২০০ মিটার দৌড়ে প্রথম স্থান অধিকার করে সে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। মালদহের এই ভূমিপুত্রের সাফল্যে এখন খুশির হাওয়া গোটা জেলাজুড়ে।
২১.৭৫ সেকেন্ডে ইতিহাস
১৬ বছর বয়সী মেহেবুবুল মাত্র ২১.৭৫ সেকেন্ডে ২০০ মিটার দৌড় শেষ করে স্বর্ণপদক নিজের নামে করে নিয়েছে। এই অভাবনীয় টাইমিং তাকে আগামীতে ‘ফেডারেশন কাপ’-এ খেলার সরাসরি ছাড়পত্র এনে দিয়েছে। ফেডারেশন কাপে ভালো ফল করতে পারলেই মেহেবুবুলের সামনে খুলে যাবে ভারতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিনিধিত্ব করার দরজা।
কৃষক পরিবারের লড়াই ও সাফল্য
মেহেবুবুলের এই সাফল্যের পথ কিন্তু খুব একটা মসৃণ ছিল না। সে কালিয়াচক-৩ ব্লকের জালুয়াবাথান পঞ্চায়েতের দক্ষিণ কদমতলি গ্রামের বাসিন্দা। বাবা কাফিউদ্দিন আহম্মেদ পেশায় একজন সাধারণ কৃষক, মা রুকসানা বিবি গৃহবধূ। আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মেহেবুবুলের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মা-বাবার সমর্থন তাকে আজ এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে সে মহদিপুর হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। ছোট থেকেই খেলাধুলার প্রতি তার ছিল বিশেষ ঝোঁক, আর সেই প্যাশনই আজ তাকে জাতীয় মঞ্চে সেরার শিরোপা এনে দিল।
আরও পড়ুন-পন্থকে নিয়ে ‘লুকোচুরি’! এলএসজি ম্যানেজমেন্টকে কড়া আক্রমণ অশ্বিনের
কোচের প্রশংসা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
মেহেবুবুলের কোচ তথা মালদহ শহরের বিশিষ্ট অ্যাথলেটিক্স প্রশিক্ষক অসিত পাল তার ছাত্রের সাফল্যে অত্যন্ত গর্বিত। তিনি বলেন, “প্রথম থেকেই মেহেবুবুলের পায়ে একটা অন্যরকম ক্ষিপ্রগতি ছিল। ওর দৌড়ানোর ধরণ অনেক পরিণত। আমি নিশ্চিত, ও যদি এই পরিশ্রম বজায় রাখে, তবে আগামী দিনে দেশের বড় সম্পদ হয়ে উঠবে।”
নিজের সাফল্যের প্রতিক্রিয়ায় লাজুক কিন্তু আত্মবিশ্বাসী মেহেবুবুল বলে, “দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা আমার ছোটবেলার স্বপ্ন। জাতীয় স্তরের এই সোনা আমার আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফেডারেশন কাপের জন্য আমি আরও কঠোর পরিশ্রম করব। আমার লক্ষ্য দেশের হয়ে অলিম্পিকের মঞ্চে দৌড়ানো।”
মালদহের ক্রীড়ামহলে উৎসবের আমেজ
কালিয়াচকের মতো একটি প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে এসে জাতীয় স্তরে সোনা জয়—এটি কেবল মেহেবুবুলের একার জয় নয়, বরং মালদহের সমস্ত উদীয়মান খেলোয়াড়দের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। জেলার ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করছেন, সঠিক পরিকাঠামো এবং সরকারি সহযোগিতা পেলে মেহেবুবুলের মতো আরও অনেক প্রতিভা মালদহ থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করবে।





