news bazar24, প্রতিবেদন | মেদিনীপুর | ২ নভেম্বর ২০২৫ ঃ
মেদিনীপুর শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডের তোড়াপাড়া সংলগ্ন এলাকায় একটি ছোট কলোনি গড়ে ওঠে কয়েক বছর আগে। যে কলোনির নাম ‘হঠাৎ পল্লী’। যদিও এই নামটি লোক মুখে প্রচলিত। নামটা শুনতে কৌতূহল জাগায় তাইনা ? স্থানীয়দের কথায়, একসময় এলাকা ছিল পুরোপুরি ফাঁকা মাঠ। হঠাৎ একদিন সেখানে একের পর এক বাড়ি গড়ে উঠতে শুরু করে। সকালে অনেকে দেখে অনেক বসতি রাতারাতি বসে গ্রেছে। তাই নাম দেওয়া হয় হঠাৎ পল্লী।
কিন্তু আজ সেই নামের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে নতুন এক চিন্তার কারণ। কারণ, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি — এই কলোনিতে বসবাস করছেন বহু বাংলাদেশি অভিবাসী। যারা বেশিরভাগ ২০০২ সালে ভোট দেয়নি ।
হঠাৎ পল্লীর বাস্তবিক রুপ
বর্তমানে হঠাৎ পল্লীতে প্রায় ৯০টি বাড়ি ও ১৫০ জনের মতো ভোটার রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ২০০২-০৩ সাল থেকে একে একে বাংলাদেশ থেকে কয়েকটি পরিবার এখানে এসে বসবাস শুরু করে।
সময় গড়াতে গড়াতে ছোট একটি বসতি এখন পূর্ণাঙ্গ কলোনিতে পরিণত হয়েছে।
বাসিন্দারা জানান, সেই সময় বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার আগুনে বহু মানুষ দেশছাড়া হন। অনেকেই প্রাণের ভয়ে পালিয়ে আসেন এই দেশে।
কেউ সীমান্ত পেরিয়ে কাঁটাতার গলিয়ে এসেছেন, কেউ বা দালালের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করেছেন। এরপর বহু বছর ধরে এখানেই স্থায়ী হয়ে পড়েছেন তাঁরা। তাদের বিয়ে সন্তান, পড়াশোনা অনেকেরই এখন এই দেশে।
একজন বাসিন্দা বলেন, “ওপারে দাঙ্গার ভয় ছিল, তাই চলে আসি। এখানে কাজ পাই, জমি কিনি, ঘর তুলি। এখন এই দেশটাই আমাদের দেশ, আমার ঘর।”
মধুচক্রের পর্দা ফাঁস করল মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ
২০০২-এর ভোটার তালিকা ও নাগরিকত্ব নিয়ে এদের প্রশ্ন
কলোনির বাসিন্দাদের থেকে বিভিন্ন মহলের থেকে প্রশ্ন উঠছে , এসআইআর (Survey for Identification of Residents) চালু হলে কী হবে এই হঠাৎ পল্লীর ভবিষ্যৎ? কি হবে এখানে বসবাসকারীদের ?
তথ্য অনুযায়ী, এখানে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষের নাম নেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়। তাঁরা পরে ভোটার কার্ড, আধার ও অন্যান্য পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন। এখন এই প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে । এদের মনে একটাই প্রশ্ন এসআইআর কার্যকর হলে তাঁদের নাম কি বাদ পড়বে ? নাগরিকত্ব কি প্রশ্নের মুখে পড়বে ?
শীতের দিনে পালং পনির,ঘরেই বানান রেস্তোরাঁর মতো স্বাদ!
বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
হঠাৎ পল্লীর বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, “আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। বহু বছর ধরে এখানে আছি, কাজ করি, ট্যাক্স দিই। এখন সরকারই ভরসা।”তাঁদের একাংশের মতে, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নিয়ম যদি স্পষ্ট হয়, তবে তাঁরা তাতে সহযোগিতা করতে রাজি।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর অনিমা সাহা জানান এই এলাকা একসময় ফাঁকা জমি ছিল। কম দামে জমি পেয়ে অনেকে বসতি গড়েছেন। বেশিরভাগ মানুষেরই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই, তবে এখন সবাই নিয়ম মেনে নথি তৈরি করেছেন। প্রশাসনিকভাবে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপির শহর মণ্ডল ১-এর সাধারণ সম্পাদক গোকুল আচার্য বলেন,এই এলাকার প্রায় সকলেই বাংলাদেশি। আমরা স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে সিএএ ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হবে যাতে তাঁরা নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন।






