রোগীদের জন্য বড় সতর্কতা, আগেভাগে ওষুধ মজুত রাখুন
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : দেশজুড়ে খুচরো ওষুধ বিক্রেতাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার রাজপথে আছড়ে পড়তে চলেছে। আগামী ২০ মে সারা ভারত জুড়ে সব রকমের ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার ডাক দিয়েছে ওষুধ ব্যবসায়ীদের বৃহত্তম সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস’ (AIOCD)। এই ধর্মঘটের জেরে পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশে কয়েক লক্ষ ওষুধের দোকান বন্ধ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।
কেন এই বড়সড় ধর্মঘটের ডাক?
সংগঠন আধিকারিক এ কে গুপ্তার পক্ষে জানানো হয়েছে, কেন্দ্র সরকারের বেশ কিছু নীতির প্রতিবাদে এবং ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। প্রধান কারণগুলি হলো-
অনলাইন ফার্মেসির বিরোধিতা: বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি অনলাইনে ওষুধ বিক্রি করে বিপুল ছাড় দিচ্ছে, যার ফলে পাড়ার ছোট ছোট ওষুধের দোকানগুলো বন্ধ হওয়ার মুখে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অনলাইন ওষুধ বিক্রিতে অনেক সময় নিয়ম মানা হয় না, যা জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর,এবং সাধারন মানুষও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে ।
আরও পড়ুন-এসির আউটডোর ইউনিট কোথায় বসাবেন—ছাদে না বারান্দায়? ভুল হলে বাড়বে বিদ্যুৎ বিল
মার্জিন কমানোর প্রতিবাদ: ওষুধের খুচরো ও পাইকারি বিক্রেতাদের লাভের অংশ (Trade Margin) কমানোর যে পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে, তা মানতে নারাজ ব্যবসায়ীরা।
লাইসেন্স ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা: লাইসেন্স নবীকরণ এবং ওষুধের দোকানের জন্য ফার্মাসিস্ট নিয়োগের কড়া নিয়ম শিথিল করার দাবি জানানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও করণীয়
২০ মে ধর্মঘট সফল হলে পশ্চিমবঙ্গজুড়েই হাজার হাজার ওষুধের দোকান বন্ধ থাকবে। এতে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের চরম সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
১. জরুরি ওষুধ মজুত রাখুন: যাদের বাড়িতে দীর্ঘমেয়াদী রোগের (যেমন সুগার, প্রেসার বা হার্টের ওষুধ) প্রয়োজন হয়, তাঁরা ১৯ তারিখের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে রাখুন। ২. হাসপাতালের পরিষেবা: যদিও সংগঠনের দাবি, ইনডোর পেশেন্ট বা হাসপাতালের জরুরি ওষুধের কাউন্টারগুলো খোলা রাখার চেষ্টা করা হবে, তবে খুচরো দোকান বন্ধ থাকায় ভোগান্তি এড়ানো কঠিন হবে। ৩. আগেভাগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ: কোনো জরুরি ইনজেকশন বা জীবনদায়ী ওষুধের প্রয়োজন থাকলে আগেই ব্যবস্থা করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ধর্মঘটের প্রভাব কোথায় পড়বে?
কলকাতা থেকে শুরু করে শিলিগুড়ি, মালদহ এবং গ্রামীণ এলাকাতেও এই বনধের প্রভাব পড়ার কথা। ওষুধের ডিস্ট্রিবিউটর এবং রিটেলার—উভয় পক্ষই এই আন্দোলনে শামিল হওয়ায় ওইদিন ওষুধের জোগান পুরোপুরি ব্যাহত হতে পারে।




