ঘটনার দায় নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে
অমিত শাহের অভিযোগ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বিজেপি!” মালদার ঘটনায় পাল্টা তোপ মহম্মদ সেলিমের
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , কলকাতা: ২০২৬-এর নির্বাচনী পারদ চড়তেই মালদার সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার পাল্টা মুখ খুললেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিজেপি এখন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে মানুষের মনে ভয় ঢোকানোর চেষ্টা করছে।
মালদার ঘটনা ও শাহের আক্রমণ
সম্প্রতি মালদার এক জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করেছিলেন যে, বাংলায় ভোটার তালিকা থেকে হিন্দুদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জনবিন্যাস পরিবর্তনের যে অভিযোগ বিজেপি দীর্ঘকাল ধরে করে আসছে, শাহর বক্তব্যে তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল।
মহম্মদ সেলিমের পাল্টা যুক্তি
অমিত শাহের এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে মহম্মদ সেলিম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে এই ধরণের মন্তব্য করা শোভা পায় না। সেলিমের প্রধান যুক্তিগুলো হলো:
১. ভোটার তালিকার দায়িত্ব কার?: সেলিম প্রশ্ন তোলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের (ECI)। আর কমিশন এখন সরাসরি কেন্দ্রের নির্দেশেই কাজ করছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। যদি তালিকায় কোনো ভুল থাকে, তবে তার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের দপ্তরের এবং কমিশনের ওপর বর্তায়।
২. অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত সুরক্ষা: বিএসএফ (BSF) সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে। সেলিম দাবি করেন, যদি অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে, তবে তার ব্যর্থতা অমিত শাহের নিজের। সীমান্তে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব যাদের, তারা কী করছিল?
৩. বিভেদকামী রাজনীতি: বাম নেতার অভিযোগ, বিজেপি উন্নয়নের কথা না বলে কেবল হিন্দু-মুসলিম বিভাজন ঘটিয়ে ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে। মালদার মতো জেলায় যেখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বাস করেন, সেখানে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।
আরও পড়ুন-দিল্লি থেকে নাম কাটা হচ্ছে ! মানিকচকের সভা থেকে শাহকে চ্যালেঞ্জ মমতার
“তৃণমূল-বিজেপি আঁতাঁত”
বরাবরের মতো মহম্মদ সেলিম এদিনও তৃণমূল ও বিজেপি-র মধ্যে গোপন আঁতাঁতের অভিযোগ তোলেন। তাঁর মতে, একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার কার্ড নিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে অমিত শাহ নাম কাটার ভয় দেখাচ্ছেন। এই দুই দল মিলে আসলে আসল সমস্যা—যেমন বেকারত্ব, পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা এবং দুর্নীতি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে চাইছে।
বামেদের রণকৌশল
মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানান, ২০২৬-এর নির্বাচনে বামফ্রন্ট মানুষের রুটি-রুজির লড়াইকে সামনে রেখে লড়বে। ভোটার তালিকায় কারচুপির যে কোনো প্রচেষ্টাকে আইনি পথে মোকাবিলা করার জন্য দলীয় কর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে মালদা ও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে যেখানে বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়েই সক্রিয়, সেখানে বামেরা সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের পথে নামবে।
সব শেষে
মালদার মাটি থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক লড়াই এখন কলকাতার অলিন্দে আছড়ে পড়েছে। একদিকে অমিত শাহের কড়া চ্যালেঞ্জ এবং অন্যদিকে মহম্মদ সেলিমের যুক্তিনির্ভর পাল্টা আক্রমণ—সব মিলিয়ে ২০২৬-এর নির্বাচন যে কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং এক তীব্র আদর্শগত যুদ্ধে পরিণত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





