রাজনীতিতে বড় ‘মৌসম বদল’! তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন মৌসম নূরের, নেপথ্যে পরিবার ও গনি খান চৌধুরীর ঐতিহ্য
রাজ্য রাজনীতিতে শনিবার কার্যত ঝড় তুলেছেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম নূর। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে তিনি ফের কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—হঠাৎ কেন এই দলবদল?
এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে এই কারণে যে, খুব সম্প্রতি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে মালদহ জেলার তিনটি বিধানসভার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেই দায়িত্ব পাওয়ার পরেও কেন তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত? তা নিয়েই এখন চর্চা রাজনৈতিক অলিগলিতে।
বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে ২০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনার টাকা বৃদ্ধির আশ্বাস শুভেন্দুর
সাধারণত দল ছাড়ার সময় নেতানেত্রীরা পুরনো দলে কাজ করতে না পারার অভিযোগ তোলেন। কিন্তু মৌসম নূরের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি নিজেই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকে শুরু করে রাজ্যসভার সাংসদ—সবই তিনি পেয়েছেন তৃণমূলে থাকাকালীন।
তবে তাঁর কথায়, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে পরিবারের সম্মিলিত মত এবং মালদহের কংগ্রেস রাজনীতির অন্যতম স্তম্ভ প্রয়াত গনি খান চৌধুরী-র রাজনৈতিক ঐতিহ্য বজায় রাখার দায়বদ্ধতা।
রাজনৈতিক সফরের শুরু ও দলবদলের ইতিহাস
২০০৯ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন মৌসম নূর। গনি খান চৌধুরীর ভাগ্নী মৌসমের মা’র মৃত্যুর পর সুজাপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী হয়ে জয়ী হন তিনি। সেই জয়ের পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক নির্বাচনী লড়াইয়ে নিজের জায়গা শক্ত করেন মৌসম।
তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস-এ যোগ দেন। এরপরই তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বড় উত্থান—রাজ্যসভার সাংসদ হন তিনি। প্রায় ছয় থেকে সাত বছর তৃণমূলে থাকার পর অবশেষে আবার নিজের পুরনো দলে, অর্থাৎ কংগ্রেস-এ প্রত্যাবর্তন।
কী বললেন মৌসম নূর
কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মৌসম নূর স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“প্রায় ছয় বছর পর ফিরে এসে সত্যিই ভালো লাগছে। যাঁরা আমাকে আবার ভালোবেসে গ্রহণ করেছেন, তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ। তৃণমূল কংগ্রেস আমাকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে—আমি জেলা প্রেসিডেন্ট ছিলাম, রাজ্যসভার সাংসদও ছিলাম। কিন্তু আমরা পরিবার হিসেবে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই আজকের এই পদক্ষেপ।”
তিনি আরও জানান, খুব শীঘ্রই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেবেন। পাশাপাশি কংগ্রেস হাইকমান্ড এবং সোনিয়া গান্ধীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মৌসম বলেন, “আজ বরকত সাহেবের কথা খুব মনে পড়ছে। আমার মা সারা জীবন কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার কাজ করেছেন। কংগ্রেস আমাদের পরিবারের অংশ। এই সিদ্ধান্ত আমি একা নেইনি, পরিবার হিসেবেই নিয়েছি। সাধারণ মানুষও চায় কংগ্রেস আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হোক।”
বিজেপিই প্রধান প্রতিপক্ষ
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, তৃণমূল সম্পর্কে কোনও নেতিবাচক মন্তব্য করেননি মৌসম নূর। বরং তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাঁর রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে—বিরোধী রাজনীতিতে কংগ্রেসকে শক্তিশালী করাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।
রাজনীতির এই বড় ‘মৌসম বদল’ মালদহ জেলা থেকে শুরু করে গোটা রাজ্য রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।





