আজও ডাকাতদের প্রথা মেনে মশাল জ্বালিয়ে হয় মানিকোড়ার কালীপুজো, দেবীর চোখ ঢেকে বলিদানের প্রথা আজও অটুট, রয়েছে নানান অলৌকিক কাহিনী
হবিবপুর, মালদহ | ১৬ অক্টোবর ২০২৫
উমার বিদায়, শ্যামার আগমন। প্রতীক্ষার পাঁচ দিন। প্রাচীন রীতি মেনে এখনো মশাল জ্বালিয়ে পূজিতা হন মানিকোড়ার ডাকাত কালী। প্রায় তিন শতাব্দী পুরনো এই পূজো আজও রীতি ও বিশ্বাসের অটুট প্রতীক।
লোকমুখে প্রচলিত, প্রায় ৩০০ বছর আগে ওপার বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ) ডাকাতরা পুনর্ভবা নদী পেরিয়ে রাতের অন্ধকারে জঙ্গলে ঘেরা মানিকোড়ায় আসতেন। সূর্য ওঠার আগেই পুজো দিয়ে ফিরে যেতেন তাঁরা। তাঁদের হাতের এই কালী আজ “ডাকাত কালী” নামেই খ্যাত।
ভূত চতুর্দশী মানে কী? চোদ্দো শাক ও চোদ্দো প্রদীপের রহস্য জানুন
ব্রিটিশ আমলে এক স্থানীয় জমিদার জঙ্গলের মধ্যে এই পুজোর বেদি খুঁজে পান। এরপর থেকে তাঁর বংশপরম্পরায় পুজো শুরু হয়। বর্তমানে জমিদারি না থাকলেও মানিকোড়ার মানুষ মিলে সার্বজনীনভাবে আয়োজন করেন এই পুজো।
অলৌকিক কাহিনী
এক শাঁখারির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এক আশ্চর্য গল্প। একদিন এক মেয়ে শাঁখা পরতে এসে বলে, তার বাবা কালীমন্দিরের সেবায়েত। দাম চাইতে গেলে সেবায়েত অবাক হয়ে জানান, তাঁর কোনও মেয়ে নেই। হঠাৎ মন্দিরপুকুরে দেখা যায় এক মেয়ে, দুই হাতে নতুন শাঁখা, জলের ওপর ভাসছে। মুহূর্তেই বোঝা যায়, তিনি স্বয়ং মা কালী।
মালদহের হবিবপুরে কৃষক রতন প্রামানিকের কালো ধান, মধুমেহ রোগীদের জন্য আশার আলো
বলিদান ও রীতি
জনশ্রুতি আছে, পাঁঠা বলির সময় দেবীমূর্তি নড়ে ওঠে ও সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। একসময় দেবীকে লোহার শিকলে বেঁধে রাখা হত, যাতে মূর্তি নড়ে না যায়। এখন সেই জায়গায় শুধু দেবীর চোখ কাপড়ে ঢেকে চক্ষুদান ও বলিদান সম্পন্ন হয়।
ভক্তদের ভিড় ও মেলা
এই পুজোকে কেন্দ্র করে সাতদিন ব্যাপী চলে মেলা ও গানের আসর। প্রতিবছর দুই থেকে তিন হাজার পাঁঠা বলি হয়। শুধু মালদহ নয়, রাজ্য ও রাজ্যের বাইরেও বহু ভক্ত সমাগম ঘটে।
মানিকোড়া ডাকাত কালী আজও ভক্তদের কাছে এক জাগ্রত দেবী— যেখানে অলৌকিকের ছোঁয়া আজও টিকে আছে।






