ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে তোপ শমীক ভট্টাচার্যের
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক , কলকাতা: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিজেপি নেতা Samik Bhattacharya দাবি করেছেন, বাংলায় আর চতুর্থবার সরকার গড়তে পারবেন না Mamata Banerjee।
এই মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এখনও মাসখানেক দেরি, কিন্তু বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে এখনই। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং তাতে ‘ভুয়ো ভোটার’ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য ভোটার তালিকা নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘ভুয়ো ভোটার’ কার্ড: শমীকের কড়া তোপ
শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, শাসক দল আসন্ন নির্বাচনে জেতার জন্য অসাধু উপায়ে ভোটার তালিকায় কারচুপি করছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচুর সংখ্যায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গাদের নাম অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে। শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস জানে যে মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাই এখন ভুয়ো ভোটারের ওপর ভর করে তারা বৈতরণী পার হতে চাইছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অনেক জায়গায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে সেখানে শাসক দলের পছন্দের লোকেদের নাম তোলা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের একাংশ মদত দিচ্ছে বলেও তিনি ইঙ্গিত করেন।
আরও পড়ুন- দুর্গাপুজোয় কাজ নেই, ভোটেই বাজছে ঢাক—মালদায় ঢাকিদের রমরমা
পাল্টা চাপের মুখে শাসক শিবির
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব পাল্টা দাবি করেছেন যে, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ভিন রাজ্য থেকে লোক এনে বাংলায় ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করছে। এই অভিযোগকে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “হারের ভয়ে মুখ্যমন্ত্রী এখন আতঙ্কিত। সেই আতঙ্ক থেকেই তিনি ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।”
২০২৬-এর লড়াই: ‘মাঠ এবং আদালত’ দুই জায়গাতেই বিজেপি
শমীক ভট্টাচার্যের হুঙ্কার, বিজেপি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে শুধু রাজপথের লড়াইতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “আমরা কোর্টেও আছি, মাঠেও আছি।” অর্থাৎ ভোটার তালিকায় কারচুপির প্রমাণ নিয়ে তাঁরা আইনি লড়াই লড়বেন এবং সাধারণ মানুষের কাছেও শাসক দলের এই ‘কারচুপি’ ফাঁস করবেন।
নির্বাচন কমিশনের কাছে বিজেপি ইতিমধ্যেই দাবি জানিয়েছে যাতে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় কঠোরভাবে স্ক্রুটিনি করা হয় এবং বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন ব্যবহার করা হয়।
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা নিয়ে এই তরজা আসলে ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের মহড়া মাত্র। বিজেপি চাইছে সিএএ (CAA) এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুকে হাতিয়ার করে ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনতে, যা তাদের ভোটব্যাঙ্ককে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, তৃণমূল চাইছে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘বাঙালি বনাম বহিরাগত’ আবেগ উসকে দিতে।
সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের এই আক্রমণ আগামী দিনে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের সুর বেঁধে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।



