মানিকচকে জনসভা থেকে কেন্দ্রকে কড়া আক্রমণ মমতার
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক, মালদা: ২০২৬-এর নির্বাচনী রণদামামা বেজে উঠতেই মালদার মাটি থেকে দিল্লিকে সরাসরি আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার মানিকচকের এনায়েতপুর গ্রামীণ গ্রন্থাগার ময়দানের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে সংখ্যালঘু এবং দলিতদের নাম বাদ দিয়ে বাংলার জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ও ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী
এদিন সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, দিল্লি থেকে ফোনে নির্দেশ দিয়ে মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করছি, আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে এখানে দাঁড়িয়ে সভা করুন এবং যাঁদের নাম কেটেছেন তাঁদের সাথে কথা বলুন। ফোন করে নির্দেশ দেন মালদা-মুর্শিদাবাদে ভোট কাটতে!
মমতা আরও অভিযোগ করেন যে, তাঁর নিজের কেন্দ্র থেকেও প্রায় ৪০ হাজার ভোট কেটে দেওয়া হয়েছে। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর কড়া নির্দেশ—কেবল প্রচার করলেই হবে না, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের নাম পুনরায় নথিভুক্ত করতে ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য করতে হবে।
আরও পড়ুন-মালদায় জনসভা থেকে মমতার হুঁশিয়ারি, ভোটার তালিকা নিয়ে সরব তৃণমূল নেত্রী
বদলি বিতর্ক ও কমিশনের ভূমিকা
নির্বাচন কমিশনের (ECI) আধিকারিক বদলি নিয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, পাঁচটি রাজ্যে ভোট হচ্ছে যেখানে সব মিলিয়ে ৫০০ অফিসার বদলানো হয়েছে, অথচ শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই ৪০০ জনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক এই রদবদলকে তিনি বিজেপির ‘সুপরিকল্পিত চাল’ বলে অভিহিত করেন।
দিল্লিতে এই সরকার আর দরকার নেই
বিজেপির আদর্শকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, “ওরা কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না, ওদের একটাই ধর্ম—মানুষ মারার ধর্ম। দিল্লির ক্ষমতা পরিবর্তনের ডাক দিয়ে তিনি সাফ জানান, এই সরকারকে আর দেশের ক্ষমতায় রাখা চলবে না। সংখ্যালঘু, তফসিলি ও জনজাতিদের ওপর ক্রমাগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে তিনি ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
ভোটের মুখে ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগ বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল। মানিকচকের এই জনসভা থেকে দেওয়া মমতার বার্তা মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো সীমান্ত জেলাগুলোতে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক সংহত করতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।





