২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে মালদহে রাজনৈতিক সমীকরণে নড়চড়
ভোট আসলেই দল ভাঙা গড়ার খেলা শুরু হয়। আর স্বার্থ সিদ্ধির কারনেই শুরু হয় এই খেলা। নেতাদের শক্তি প্রদর্শন হয় দল ভাঙা বা গড়ার ক্ষেত্রে। আর সেই ভাবেই কালিয়াচকে একাধিক সংখ্যালঘু পরিবারের মহিলাদের AIMIM-এ যোগদান, শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা ।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে দলগুলির তৎপরতা বাড়ছে। উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলা মালদহ–এ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস–এর অন্দরে অসন্তোষের ছবি সামনে আসছে বলে দাবি বিরোধীদের। সেই আবহেই AIMIM (মিম) ধীরে ধীরে সংগঠন বিস্তারের পথে এগোচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ। আর এই মিম বি জেপির হয়েই কাজ করছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের ।
কালিয়াচকে দলবদলের ঘটনা
মালদহ জেলার কালিয়াচক–১ নম্বর ব্লক থেকে প্রায় ৪০টি সংখ্যালঘু পরিবারের মহিলা AIMIM-এ যোগদান করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। এই যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদহ জেলা AIMIM সভাপতি রেজাউল করিম। তিনি নতুন সদস্যদের হাতে দলের পতাকা তুলে দেন।
নতুন এলএইচবি কোচ নিয়ে যাত্রা শুরু বালুরঘাট-কলকাতা তেভাগা এক্সপ্রেসের
কী বলছেন যোগদানকারীরা
দলবদলকারী মহিলাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করে এলেও প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, নারীদের সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাস্তব উন্নতি চোখে পড়ছে না। সেই কারণেই ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁরা নতুন রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে AIMIM-কে বেছে নিয়েছেন।
একজন যোগদানকারী মহিলা বলেন, “আমরা বহু বছর ভোট দিয়েছি, কিন্তু আমাদের সমস্যার সমাধান হয়নি। এবার আমরা পরিবর্তন চাই।”
AIMIM নেতৃত্বের বক্তব্য
এই প্রসঙ্গে AIMIM জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেই নারীরা নিজেদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে মহিলাদের ভোট বড় ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, দল ক্ষমতায় এলে নারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে—যদিও এসব প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী প্রেক্ষাপটেই দেখা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত।
জাতীয় সড়কে ট্রাক–বাস সংঘর্ষ, আগুনে পুড়ে প্রাণ গেল ১০ যাত্রীর
পাল্টা কটাক্ষ শাসক ও বিরোধীদের
এই দলবদলের ঘটনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের একাংশের কটাক্ষ, AIMIM মূলত ভোটের আগে সক্রিয় হয় এবং স্থায়ী রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করতে পারে না। অন্যদিকে Bharatiya Janata Party (বিজেপি) পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেছে, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের মধ্যেও রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ছে, যার ফলেই শাসক দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক নেতাদের অভিমত
রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দলগুলি ছোট হলেও প্রতীকী দলবদল আগামী দিনে মালদা জেলার ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও নির্বাচনের এখনও সময় বাকি, তবে বিভিন্ন দলের সক্রিয়তা থেকেই স্পষ্ট ভোটের লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। আর এর মধ্যেই মিম কোমরে গামছা বেঁধে নেমে পড়েছে ।





