অসম–বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের অভিযোগ
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্কঃ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে মালদহে গ্রেপ্তার করা হলো তিন বাংলাদেশি যুবতীকে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজের সন্ধানে বেঙ্গালুরু যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু মালদা টাউন স্টেশনে রেল সুরক্ষা বাহিনীর (আরপিএফ) রুটিন তল্লাশির সময় ধরা পড়ে যান ওই তিনজন।
ঘটনাটি সামনে আসতেই সীমান্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রেল পুলিশ জানিয়েছে, গৌহাটি থেকে বেঙ্গালুরুগামী গৌহাটি–এসএমভিটি এক্সপ্রেসের মহিলা কামরায় নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। সেই সময় তিন যুবতীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁদের পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হয়। বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পারায় তাঁদের আটক করা হয়।
পরে আরপিএফ তাঁদের মালদা টাউন জিআরপি থানার হাতে তুলে দেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ধৃত তিনজনই বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা। অভিযোগ, তাঁরা অসম–বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর গৌহাটি থেকে ট্রেনে উঠে বেঙ্গালুরুতে কাজের খোঁজে যাচ্ছিলেন।
আরও পড়ুন-স্কুল চাকরি মামলায় রাজ্যকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের, এসপি সিনহাকে শর্তসাপেক্ষ জামিন
দালালচক্রের যোগ রয়েছে কি?
তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, এই ঘটনার সঙ্গে কোনও দালালচক্র বা মানবপাচারকারী চক্র জড়িত থাকতে পারে। কারণ সীমান্ত পেরিয়ে একা তিন যুবতীর এত দূর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া সহজ নয়। তাঁদের ভারতে প্রবেশে কারা সাহায্য করেছে এবং ট্রেনে ওঠার পেছনে কারা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ধৃতদের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। তাঁদের সঙ্গে আর কেউ ছিল কি না বা একই ট্রেনে আরও কেউ অবৈধভাবে যাত্রা করছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
এই ঘটনা সামনে আসার পর সীমান্ত সুরক্ষা ও রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে এমন সংবেদনশীল সময়ে কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ সম্ভব হলো, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মালদা টাউন জিআরপি থানার আইসি প্রশান্ত রায় জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সোমবার ধৃত তিন যুবতীকে মালদা আদালতে তোলা হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশি হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
রেল পুলিশ সূত্রে খবর, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও যোগাযোগের সূত্র ধরেও তদন্ত এগোচ্ছে। প্রয়োজনে সীমান্ত এলাকার সংশ্লিষ্ট থানাগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে।
সব মিলিয়ে, এই গ্রেপ্তারি শুধু তিন যুবতীর অনুপ্রবেশের ঘটনা নয়—বরং এর পেছনে বড় কোনও চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, সেটাই এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ প্রশাসন। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর সকলের।





