হঠাৎ দূরবর্তী বদলি আদেশে ক্ষোভ, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক, মালদা: মালদা রিজিয়নের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত প্রায় ১০০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী সোমবার কর্মবিরতি পালন করলেন। হঠাৎ করে জারি হওয়া দূরবর্তী বদলি আদেশের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত কর্মীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদা শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কর্মীদের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে স্টেট ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। অনেকে ১৫ থেকে ২৫ বছর ধরে একই ব্যবস্থায় কর্মরত। শুরুতে তাঁরা সরাসরি ব্যাঙ্কের চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর আগে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁদের পরিষেবা একটি তৃতীয় পক্ষ সংস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকেই তাঁরা ‘এমএসই ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার অধীনে কাজ করছেন।
বাস্তবে তাঁরা ব্যাঙ্কের কাজই করেন—ক্যাশ হ্যান্ডলিং থেকে শুরু করে ডেটা এন্ট্রি, গ্রাহক পরিষেবা, নথি সংরক্ষণ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান। তবে নিয়োগ ও প্রশাসনিক বিষয়গুলি এখন ওই সংস্থার মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।
হঠাৎ বদলির নির্দেশে অস্বস্তি
অভিযোগ, গতকাল কোনও রকম পূর্ব ঘোষণা, আলোচনা বা মতামত না নিয়েই একাধিক কর্মীর দূর-দূরান্তের শাখায় বদলির নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এতে প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে কর্মীদের মধ্যে।
তাঁদের বক্তব্য, যে বেতনে তাঁরা কাজ করেন তা অত্যন্ত সীমিত। দূরবর্তী শাখায় প্রতিদিন যাতায়াত করতে গেলে গাড়িভাড়াতেই অধিকাংশ টাকা খরচ হয়ে যাবে। ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। অনেকেই পারিবারিক দায়িত্ব, সন্তানদের পড়াশোনা বা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনার কারণে স্থান পরিবর্তনে অক্ষম বলে জানিয়েছেন।
এক কর্মীর বক্তব্য,
“আমরা এত বছর ধরে একই রিজিয়নে কাজ করছি। হঠাৎ করে এত দূরে বদলি করলে এই সামান্য টাকায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।”
কর্মবিরতি ও ডেপুটেশন
এই পরিস্থিতিতে সোমবার কর্মীরা কর্মবিরতি পালন করেন। পরে তাঁরা মালদা রিজিওনাল ম্যানেজারের কাছে ডেপুটেশন জমা দেন। ডেপুটেশনে বদলি আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার বা সংশোধনের দাবি তোলা হয়েছে।
কর্মীদের তরফে জানানো হয়েছে, প্রশাসন যদি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা না করে, তবে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। ভবিষ্যতে অবস্থান বিক্ষোভ বা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির মতো কর্মসূচিও নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া নেই
এই বিষয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট তৃতীয় পক্ষ সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বদলি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণ কী, তা নিয়েও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পরিষেবা দেওয়া কর্মীদের হঠাৎ বদলি আদেশ ঘিরে তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থা আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।





