নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশনগুলির ডাকে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে সাধারণ ধর্মঘট। তবে পশ্চিমবঙ্গে চলমান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে সাধারণ ধর্মঘটের বদলে পালিত হচ্ছে ‘শিল্প ধর্মঘট’। পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ যাতে ব্যাহত না হয়, সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনগুলি।
এই শিল্প ধর্মঘট সফল করতে সকাল থেকেই মালদা শহরে পথে নামেন বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা। সিটু, এআইটিইউসি, ইউটিইউসি, টিইউসিসি এবং আইএনটিটিইউসি-সহ একাধিক সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা সকালে মালদা শহরের বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক এবং বীমা সংস্থার দফতরের সামনে পিকেটিং কর্মসূচি নেন।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাঙ্কের গেটের সামনে পতাকা টাঙিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় ধর্মঘট সমর্থকদের। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদে তাঁরা সরব হন। শ্রমকোড প্রত্যাহার, বিদ্যুৎ আইন বাতিল, কৃষকদের ঋণ মকুব, সমকাজে সমবেতন নিশ্চিতকরণসহ একাধিক দাবিতে আন্দোলনকারীরা আওয়াজ তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান নীতির ফলে শ্রমিক-কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।
আরও পড়ুন-মালদহের মহদিপুর সীমান্তে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার, উদ্ধার টাকা ও মোবাইল
পিকেটিং চলাকালীন বিভিন্ন দপ্তরের সামনে কিছু সময়ের জন্য স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ে বলে জানা যায়। যদিও পরীক্ষার কারণে রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ বন্ধের চিত্র দেখা যায়নি, শিল্প ধর্মঘটকে ঘিরে সংগঠনগুলির সক্রিয় উপস্থিতি নজরে পড়ে।
এদিনের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সিটুর জেলা সভাপতি প্রণব দাস। উপস্থিত ছিলেন সিটুর অম্বর মিত্র, নেতা নীলয় গাঙ্গুলি, মিন্টু চৌধুরী, নুরুল ইসলাম-সহ অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের দাবি-দাওয়ার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত ইতিবাচক সাড়া না দিলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে, পরীক্ষার মরশুমে সাধারণ ধর্মঘটের পরিবর্তে শিল্প ধর্মঘট পালন করে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রাখা হয়েছে, অন্যদিকে শ্রমিক স্বার্থের প্রশ্নেও সংগঠনগুলি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।





