Newsbazar24 Desk: মালদহের এক দিনমজুর পরিবারের কিশোরী শান্তিপ্রিয়া পাহাড়ি আজ লড়াইয়ের আরেক নাম। অভাবের সংসারে জন্ম, প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধে সংগ্রাম—সবকিছুকে পেছনে ফেলে নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমে সে পৌঁছে গিয়েছে জাতীয় স্তরের ক্রীড়াঙ্গনে।
রাজ্যস্তরের আদিবাসী গেমসে ১০০ মিটার হার্ডলসে ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে শান্তিপ্রিয়া প্রথমে সুযোগ পায় জাতীয় স্তরের বাছাইপর্বে। সেখানেও নজরকাড়া ফল করার পর নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করে সে নির্বাচিত হয়েছে খেলো ইন্ডিয়া ন্যাশনাল ট্রাইবাল গেমস-এ।
বর্তমানে শান্তিপ্রিয়া মালদহ রেলওয়ে হাই স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। পড়াশোনার চাপের মধ্যেও সে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। কারণ, মালদহ জেলার একমাত্র আদিবাসী খেলোয়াড় হিসেবেই সে ১০০ মিটার হার্ডলসে এই জাতীয় আসরে প্রতিনিধিত্ব করবে।
আরও পড়ুন- বিকশিত ভারত ইয়াং লিডার ডায়ালগে সুযোগ পেয়ে নজির গড়লেন মালদা কলেজের ছাত্রী সামরিন
আগামী ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে, বিরসা মুন্ডা স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই প্রতিযোগিতা। ১২ ফেব্রুয়ারি মালদহ থেকে রওনা দেবে শান্তিপ্রিয়া।
ইংরেজবাজার পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের নরসিং কুপ্পার বাসিন্দা শান্তিপ্রিয়ার বাবা মিলন পাহাড়ি পেশায় শ্রমিক, মা অষ্টমী পাহাড়ি গৃহবধূ। সংসারে রয়েছে আরও দুই ভাই। খেলাধুলার সরঞ্জাম কেনা বা অতিরিক্ত খরচ বহন করার সামর্থ্য না থাকলেও, গত পাঁচ বছর ধরে সে নিরলসভাবে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
শান্তিপ্রিয়ার স্বপ্ন একদিন দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিনিধিত্ব করা। সে জানায়, আগেও জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে এবং সেই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এবার আবার সুযোগ মিলেছে।
তার প্রশিক্ষক অসিত পাল বলেন, “দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে শান্তিপ্রিয়া আমার কাছে অনুশীলন করছে। দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে তার অধ্যবসায় আর মনোযোগই তাকে আজ এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। মালদহ জেলার একমাত্র আদিবাসী খেলোয়াড় হিসেবে তার এই সাফল্য আমাদের সকলের কাছে গর্বের।”
ক্রীড়াপ্রেমী মালদহবাসীর আশা, কঠোর পরিশ্রমের এই গল্প এবার জাতীয় মঞ্চে আরও উজ্জ্বল সাফল্যের রূপ নেবে।





