পথ দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুপুত্রের মৃত্যু, ময়নাতদন্তে দেহ রেখে শুনানি কেন্দ্রে ছুটলেন স্বামী
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ এক হৃদয়বিদারক পথ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল মালদা জেলা। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক গৃহবধূ ও তাঁর নয় মাসের শিশুপুত্র। পারিবারিক এই চরম বিপর্যয়ের মধ্যেই প্রশাসনিক শুনানিতে যোগ দিতে বাধ্য হলেন মৃতাদের স্বামী—যা গোটা ঘটনাকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।
মৃত শিক্ষক এমডি ইয়াসিন আনসারী গাজোল থানা এলাকার খড়দহিল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কালিয়াচক ব্লকের সুজাপুর নয়মৌজা হাই মাদ্রাসার শিক্ষক। কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি স্ত্রী হালিমা খাতুন এবং নয় মাসের পুত্র সন্তান আরিফ হাসানকে নিয়ে সুজাপুর এলাকাতেই বসবাস করছিলেন।
জানা গেছে, নামের বানান সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক সমস্যার কারণে আজ শিক্ষক এমডি ইয়াসিন আনসারী এবং তাঁর স্ত্রীর শুনানির দিন ধার্য ছিল। সেই শুনানিতে হাজির থাকার জন্যই গতকাল রাতে পরিবারসহ বাড়ি থেকে বের হন তাঁরা। পরিকল্পনা ছিল বাসে করে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর। সেই উদ্দেশ্যে টোটো করে আমবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন তাঁরা।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পথিমধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সুস্তানি এলাকায় পৌঁছনোর পর হঠাৎ টোটোটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় গৃহবধূ হালিমা খাতুনের। গুরুতর আহত অবস্থায় নয় মাসের শিশুপুত্র আরিফ হাসানকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এক নিমিষেই সব শেষ। স্ত্রী ও সদ্যোজাত শিশুকে হারিয়ে কার্যত ভেঙে পড়েন শিক্ষক এমডি ইয়াসিন আনসারী। কিন্তু সেই শোক সামলে নেওয়ার সুযোগও পাননি তিনি। প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী শুনানিতে হাজিরা বাধ্যতামূলক হওয়ায় আজ স্ত্রী ও শিশুপুত্রের দেহ মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ময়নাতদন্ত বিভাগে রেখে শুনানি কেন্দ্রে ছুটতে বাধ্য হন তিনি।
একদিকে পরিবারের দুই সদস্যকে হারানোর অসীম যন্ত্রণা, অন্যদিকে প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা—সব মিলিয়ে এই ঘটনা মানবিকতার প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। শোকস্তব্ধ পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।





