দীর্ঘদিনের দাবির অবসান, শুরু পরিচয়পত্র বিতরণ
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক ঃ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান। মালদা জেলায় প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য সচিত্র আইডেন্টিটি কার্ড (আইকার্ড) প্রদানের কাজ শুরু করল মালদা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। জেলার প্রায় ৯২৫৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে পর্যায়ক্রমে এই পরিচয়পত্র তুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান
সংসদের সভাপতি বাসন্তী বর্মন-এর উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া শিক্ষকদের বহুদিনের দাবি পূরণ করল। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাজের সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে।
অনেক সময় স্বপ্ন কেবল কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বাস্তব চাহিদা ও দীর্ঘ প্রচেষ্টার সমন্বয়ে সেই স্বপ্নই একদিন বাস্তব রূপ পায়। মালদার শিক্ষক সমাজের ক্ষেত্রেও আইকার্ড প্রাপ্তি তেমনই এক প্রাপ্তি।
আইকার্ড প্রদানের মূল উদ্দেশ্য
সীমান্তবর্তী এলাকায় কর্মরত শিক্ষকদের পরিচয় সুনিশ্চিত করা
সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর তল্লাশিতে অযথা হয়রানি ও ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো
সরকারি পরিচয়পত্র হিসেবে প্রশাসনিক কাজে সুবিধা প্রদান
বিশেষত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বিদ্যালয়গুলির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য এই সচিত্র পরিচয়পত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন-যুবসাথী আবেদনে রিসিভ কপি না মেলায় কালিয়াচক–৩ ব্লকে তীব্র উত্তেজনা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
আনুষ্ঠানিক সূচনা
শুক্রবার মালদা শহরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আইকার্ড তুলে দেন সভাপতি বাসন্তী বর্মন। উপস্থিত ছিলেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) মলয় মন্ডল, ফিন্যান্স অফিসার দীপঙ্কর রায় সহ অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকরা।
সভাপতি বাসন্তী বর্মন বলেন, “শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জেলার সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে এই পরিচয়পত্র পৌঁছে দেওয়া হবে।”
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক মলয় মন্ডল জানান, “এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরেই এই পরিচয়পত্রের দাবি ছিল। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের শিক্ষকদের জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি।”
শিক্ষক মহলে খুশির হাওয়া
আইকার্ড হাতে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি শিক্ষক সমাজ। মালদা শহরের মহেশমাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অধীর চৌধুরী বলেন, “আমরা অত্যন্ত খুশি। এই পরিচয়পত্র আমাদের কাজের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা দেবে।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়ায় জেলা জুড়ে শিক্ষক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মালদা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট টিমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
একটি পরিচয়পত্র হয়তো ছোট একটি কার্ড—কিন্তু এর মধ্যে জড়িয়ে থাকে নিরাপত্তা, স্বীকৃতি ও আত্মসম্মানের বড় অনুভূতি। মালদার শিক্ষক সমাজের কাছে এই দিনটি তাই নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।





