নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ সাতসকালে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী পথদুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল পুরাতন মালদা। বুধবার ভোরে মিশন রোড সংলগ্ন জাতীয় সড়কের ওপর একটি দ্রুতগতির অজানা গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল এক বাইক আরোহীর। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে আরও একজন বর্তমানে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভোরবেলাতেই মর্মান্তিক পরিণতি
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ভোর ৬টা নাগাদ যখন কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তায় দৃশ্যমানতা কিছুটা কম ছিল, ঠিক সেই সময় দুই বাইক আরোহী মিশন রোড এলাকায় জাতীয় সড়ক পার হচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি ঘাতক যান অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এসে বাইকটিকে পিষে দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় একজনের। খবর পেয়ে পুলিশ ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এসে দেহ উদ্ধার এবং আহতকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইভ’ নিয়ে প্রশ্ন
দুর্ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে জাতীয় সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তাঁদের ক্ষোভের মূল কারণগুলি হলো:
নিরাপত্তার অভাব: স্থানীয়দের দাবি, ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইভ’ (Safe Drive Save Life) কর্মসূচির নাম করে পুলিশ শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের থেকে টাকা তুলতেই ব্যস্ত থাকে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক সামলানো বা গতি নিয়ন্ত্রণের বদলে টাকা আদায়কেই তারা অগ্রাধিকার দেয়।
প্রভাবশালীদের দাপট: অভিযোগ উঠেছে যে, যারা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায় বা ট্রাফিক আইন ভাঙে, তাদের ‘হাত’ অনেক লম্বা। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ অপরাধীদের চিনতে পারলেও তাদের টিকি ছুঁতে পারে না।
অধরা ঘাতক গাড়ি: দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও ঘাতক গাড়িটির হদিস না মেলায় পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন-মালদার জহুরা চণ্ডী মেলা: বর্গি আক্রমণ থেকে আজকের সম্প্রীতির নিদর্শন
তদন্তের বর্তমান অবস্থা
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। ঘাতক গাড়িটি চিহ্নিত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের এই গুরুতর অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভোরবেলার এই মর্মান্তিক মৃত্যু এবং স্থানীয়দের ক্ষোভ—সব মিলিয়ে মিশন রোড এলাকায় পরিস্থিতি যথেষ্ট থমথমে।



