শীতের দাপট কমতেই মালদায় সময়ের আগেই আমের মুকুল, ভালো ফলনের আশায় চাষিরা

নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ ফেব্রুয়ারির দশ তারিখ। সাধারণ হিসেব অনুযায়ী এই সময়টাই মালদার আমচাষিদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঠিক এই সময় থেকেই আমের গাছে গাছে মুকুল দেখা দেওয়ার কথা। কিন্তু এ বছর সেই ছবিটা একটু আলাদা। জেলার বহু বাগানে শুধু মুকুল আসাই নয়, অনেক গাছে ইতিমধ্যেই মুকুলে ভরে গিয়েছে ডালপালা।

বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ছে—কোথাও পুরোপুরি ফোটা মুকুল, কোথাও আবার কুঁড়ি থেকে ধীরে ধীরে বেরোচ্ছে ফুল। চাষিদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার মুকুলের উপস্থিতি অনেকটাই স্পষ্ট। ফলে ফলন নিয়ে আশা যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে দায়িত্বও।

এই পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ আবহাওয়া। জানুয়ারির শেষ থেকেই শীতের দাপট অনেকটাই কম। সকালের দিকে হালকা ঠান্ডা থাকলেও দিনের বেশির ভাগ সময় রোদ ঝলমলে। তাপমাত্রা ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে। কৃষিবিদদের মতে, এই তাপমাত্রাই আমের গাছকে দ্রুত মুকুল ধরাতে সাহায্য করছে।

মাঠে কাজ করা চাষিরা বলছেন, এবার পরিচর্যার কাজ শুরু করতে হয়েছে আগের তুলনায় অনেক আগে। আগে যেখানে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে স্প্রে ও নজরদারি বাড়ত, সেখানে এখন ফেব্রুয়ারির শুরুতেই সেই চাপ এসেছে। গাছের পাতায় কোনো দাগ পড়ছে কি না, মুকুলে পোকা ধরছে কি না—সব কিছুতেই নজর রাখতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন- দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে খেলো ইন্ডিয়া ন্যাশনাল ট্রাইবাল গেমসে মালদহের কিশোরী শান্তিপ্রিয়া পাহাড়ি

মালদায় আমের প্রজাতিভেদেও আলাদা ছবি দেখা যাচ্ছে। রাখালভোগ, লক্ষ্মণভোগ, গোপালভোগের মতো আগাম প্রজাতির গাছে মুকুল অনেকটাই ফোটা। অন্যদিকে ল্যাংড়া, হিমসাগর, আশিনার মতো দেরিতে পাকা আমের গাছে এখনো অনেক ক্ষেত্রে কুঁড়ি অবস্থায় রয়েছে মুকুল। তবে চাষিদের অভিজ্ঞতা বলছে, আবহাওয়া এমনই থাকলে আগামী এক–দেড় সপ্তাহের মধ্যেই এই গাছগুলিও মুকুলে ভরে উঠবে।

জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক সামন্ত লায়েক জানিয়েছেন, চলতি মরশুমে দিনের বেশিরভাগ সময় রোদ থাকায় এবং ধাপে ধাপে ঠান্ডার দাপট কমে যাওয়ায় আমগাছ স্বাভাবিকের আগেই মুকুল ধরতে শুরু করেছে। তাঁর মতে, এই ধরনের আবহাওয়াই গাছে ফুল আসার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে।

তবে শুধু মুকুল আসাই শেষ কথা নয়। এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা—এই মুকুল কতটা সুরক্ষিত থাকবে। কারণ ফেব্রুয়ারি মাসে আচমকা তাপমাত্রা কমে যাওয়া বা কুয়াশার দাপট বাড়লে মুকুলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই কারণেই উদ্যানপালন দপ্তরের তরফে চাষিদের নিয়মিত স্প্রে ও পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চাষিদের আরেকটি হিসেব ঘুরছে বাজারকে ঘিরে। যদি আগাম মুকুল থেকে আগাম ফলন হয়, তাহলে বাজারে আম ওঠার সময়ও এগিয়ে আসবে। এতে একদিকে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, অন্যদিকে একসঙ্গে বেশি আম বাজারে এলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। ফলে অনেক চাষিই এখন থেকেই ফলনের সময়কাল নিয়ে পরিকল্পনা করছেন।

সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই মালদার আমবাগানে যে ছবি দেখা যাচ্ছে, তা আশাব্যঞ্জক হলেও সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের আবহাওয়া ও পরিচর্যাই ঠিক করবে, এই আগাম মুকুল শেষ পর্যন্ত কতটা সুফল দিতে পারবে। এখন চাষিদের নজর শুধু আকাশ আর গাছের দিকেই—কারণ এই সময়ের ছোট ভুলেই বদলে যেতে পারে পুরো মরশুমের ফলাফল।

সপ্তাহের সেরা

ভারতে চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট! কীভাবে পাবেন, আবেদন পদ্ধতি থেকে সুবিধা—জানুন এক নজরে সবকিছু

ই-পাসপোর্টে কী কী সুবিধা পাবেন সাধারণ নাগরিকরা নিউজবাজার২৪ ডিজিটাল ডেস্ক:...

টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২৫০ রানও আর নিরাপদ নয়! আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বদলে যাচ্ছে ক্রিকেটের পুরনো দর্শন

টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে কেন এত দ্রুত বদলে যাচ্ছে ব্যাটিংয়ের ধরন? নিউজ...

গাজোলে পুকুর খুঁড়তেই উঠল প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি, বালুরঘাটে রহস্যময় সিঁড়ি! দোলপূর্ণিমায় দুই জেলায় হুলুস্থুল

গাজোলে পুকুর সংস্কারে উঠে এল প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি: পূজার্চনায় মাতলেন...

Topics

ভারতে চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট! কীভাবে পাবেন, আবেদন পদ্ধতি থেকে সুবিধা—জানুন এক নজরে সবকিছু

ই-পাসপোর্টে কী কী সুবিধা পাবেন সাধারণ নাগরিকরা নিউজবাজার২৪ ডিজিটাল ডেস্ক:...
spot_img

Related Articles

Popular Categories

spot_imgspot_img