বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে কালিয়াচকের লিচু বাগানগুলো
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক , মালদা: আমের পাশাপাশি মালদা জেলার অর্থনীতি ও কৃষি মানচিত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো লিচু চাষ। কিন্তু চলতি ২০২৬ সালের মরশুমে প্রকৃতির খামখেয়ালি আচরণে দিশেহারা মালদার লিচু চাষিরা। শীতের শেষে অসময়ের বৃষ্টি এবং আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে লিচু বাগানে। কৃষি বিশেষজ্ঞ ও উদ্যানপালন দপ্তরের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বছর জেলায় লিচু উৎপাদনের হার গত বছরের তুলনায় অনেকটাই নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিসংখ্যানের আলোয় সংকটের চিত্র
মালদা জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এই বছর জেলায় প্রায় ১৫৫৩ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাগানের সংখ্যা প্রায় ৫০ হেক্টর বৃদ্ধি পেলেও, মুকুল আসার হার আশাব্যঞ্জক নয়।
মুকুলের হার: জেলায় এই মরশুমে মাত্র ৫৫ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্লক: কালিয়াচক-১ ব্লকে ৬৮৪ হেক্টর, কালিয়াচক-২ ব্লকে ১৯০ হেক্টর এবং কালিয়াচক-৩ ব্লকে ৩০০ হেক্টর জমিতে চাষ হলেও, এই এলাকাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিগত বছরের পরিসংখ্যান: গত বছর মালদা জেলায় লিচুর ফলন হয়েছিল প্রায় ৮৯০০ মেট্রিক টন, যা এ বছর পাওয়া কঠিন হতে পারে।
কেন এমন বিপর্যয়? (কৃষি বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা)
উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক সামন্ত লায়েকের মতে, এই সমস্যার পেছনে মূলত জলবায়ুর পরিবর্তন কাজ করেছে। শীতের আগে অকাল বৃষ্টির কারণে লিচু গাছে মুকুলের পরিবর্তে নতুন পাতা গজিয়ে গিয়েছে। লিচু গাছের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় (Physiological cycle) মুকুল আসার সময় নতুন পাতা বের হওয়া মানেই ফলন কমে যাওয়া।
আরও পড়ুন-সকালে কি এক শালিক দেখেছেন? অজান্তেই নিজের বড় ক্ষতি করছেন না তো! জানুন কী বলছে শাস্ত্র
বাজারে প্রভাব ও অর্থনীতির সমীকরণ
উৎপাদন কম হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারে। লিচু চাষি আখতার আলি জানিয়েছেন, গত বছরের লোকসানের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে এবার প্রথম থেকেই সার ও কীটনাশক দিয়ে নিবিড় পরিচর্যা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতির কাছে হার মানতে হয়েছে।
মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, “ফলন কম হলে বাজারে লিচুর আকাশছোঁয়া দাম হতে পারে। ক্রেতাদের জন্য এটি দুঃসংবাদ এবং চাষিদের জন্য বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা।
চাষিদের জন্য দপ্তরের পরামর্শ
বর্তমানে যেটুকু মুকুল বাগানে টিকে রয়েছে, তা রক্ষা করতে উদ্যানপালন দপ্তর থেকে বিশেষ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে: ১. পর্যাপ্ত সেচ: মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখতে নিয়মিত গাছে জল দিতে হবে। ২. সংবেদনশীল কীটনাশক: ছোট ফল আসার পর সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে যাতে ফলের গুটি ঝরে না পড়ে। ৩. পুষ্টি ব্যবস্থাপনা: গাছের গোড়ায় পরিমিত সার প্রয়োগের মাধ্যমে পুষ্টি নিশ্চিত করা।





