নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক:কলমের বিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরা এবং হারিয়ে যেতে বসা পুরনো দিনের কালি–কলমকে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে মালদায় আয়োজিত হল কলম উৎসব। জেলার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মালদা রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দির-এর সহযোগিতায় এবং পুরাতন মালদহের গ্রন্থাগারিক সুবীর কুমার সাহার ব্যক্তিগত উদ্যোগে শনিবার দুপুরে এই কলম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
এদিন ফিতে কেটে কলম উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক স্বামী তাপহরানন্দ মহারাজ। উপস্থিত ছিলেন প্রদর্শনীর উদ্যোক্তা সুবীর কুমার সাহাও। তাঁর দীর্ঘদিনের সংগ্রহে থাকা কয়েকশো দুর্লভ ও ঐতিহাসিক কলম এদিন প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়। এই প্রদর্শনী ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি অভিভাবক–অভিভাবিকাদেরও বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
প্রদর্শনীতে কলমের প্রায় ৫০০০ বছরের বিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। নলখাগড়া, পাখির পালক, হাড় ও ধাতুর শলাকা থেকে শুরু করে আধুনিক ফাউন্টেন পেন এবং বলপয়েন্ট কলম—কলমের দীর্ঘ যাত্রাপথ এখানে চিত্রিত করা হয়েছে। ইতিহাসে দেখা যায়, প্রাচীন মিশরীয়রা নলখাগড়ার কলম ব্যবহার করত, রোমানরা ব্যবহার করত ধাতব স্টাইলাস, আর পালকের কলম বহু শতাব্দী ধরে লেখার প্রধান মাধ্যম হিসেবে প্রচলিত ছিল।
যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে লেখার জগতে বিপ্লব আনে ফাউন্টেন পেন। এই কলমের আবিষ্কারক হিসেবে পরিচিত লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান। ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম ‘ঝরনা কলম’ নামকরণ করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে আসে নানা ধরনের ও নানা দামের ফাউন্টেন পেন—যার মধ্যে পার্কার, শেফার, ওয়াটারম্যান, সোয়ান ও পাইলট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরবর্তীকালে এই ফাউন্টেন পেনই রূপ নেয় বল পেন বা ডট পেনে।এই প্রদর্শনীতে উপর উল্লিখিত পেনগুলো ছাড়াও রয়েছে সোনার পেন আবার কোনও পেন রয়েছে চাদির ওপর হাতির দাঁতের তৈরি । এইগুলো দেখলে মনে হবে আগেকার দিনের রাজারা এই পেন ব্যবহার করতেন । শুধু তাই নয় ব্রিটিশ আমলের পেন ও রয়েছে।
প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি এরকম পুরনো যুগ ও বর্তমান যুগের পেনের সম্ভার নিয়ে কলম উৎসব উদ্যোগ নিলেন সুবীর সাহা।
এই প্রদর্শনীতে কলমের পাশাপাশি রাখা হয়েছে নানা ধরনের দোয়াত। কাচ, কাট–গ্লাস, পোর্সেলিন, শ্বেতপাথর, জেড, পিতল, ব্রোঞ্জ, ভেড়ার শিং—এমনকি সোনার তৈরি দোয়াতও প্রদর্শনীতে স্থান পায়। নানান ধরনের কলম ও দোয়াতের এই বিরল সংগ্রহ দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
সুবীর সাহা বলেন,পেনের গুরুত্ব পড়ুয়াদের বোঝাতে পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মকে কলমের বিবর্তনের ইতিহাস জানাবার জন্যই এই কলম উৎসবের আয়োজন। তার আক্ষেপ বর্তমানে ডিজিটাল যুগে পেনের ব্যবহার কমছে। মালদা রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ তপোহারানন্দজী বলেন, সুবীরবাবুর উদ্যোগেই এই কলম উৎসবের আয়োজন । বিভিন্ন ধরনের পেন এবং তার ব্যবহার সম্পর্কেও তিনি পড়ুয়াদের উৎসাহিত করছেন। আমাদের আশা এই কলম উৎসব এর মধ্য দিয়ে সকলেই পেনের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত হোক।





