মালদায় হনুমান জয়ন্তীতে ভক্তির জোয়ার
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , মালদা: একসময় জেলার হাতেগোনা কয়েকটি প্রাচীন মন্দিরে সীমাবদ্ধ ছিল বজরংবলীর আরাধনা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বদলেছে ছবিটা। বর্তমানে মালদা জেলার আনাচে-কানাচে, শহরের অলিতে-গলিতে এখন হনুমান পূজার ধুম। বিশেষ করে চৈত্র পূর্ণিমার পুণ্য তিথিতে রামভক্ত হনুমানের আরাধনা এখন মালদার অন্যতম প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে। শক্তির প্রতীক এবং সংকটের ত্রাণকর্তা হিসেবে বজরংবলীর প্রতি সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে যুবসমাজের এই অগাধ ভক্তি ও আড়ম্বরপূর্ণ উদযাপন জেলার ধর্মীয় মানচিত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রাচীন ঐতিহ্য থেকে আধুনিক উদযাপন
শহরের প্রবীণ বাসিন্দা সুধাময় আগরওয়ালার স্মৃতিচারণায় ফুটে উঠল সেই পুরনো দিনের কথা। তিনি জানান, “আমাদের সময়ে শহরের নির্দিষ্ট কিছু প্রাচীন মন্দিরেই হনুমানজি’র পুজো হতো। কিন্তু এখন দেখছি শহরের প্রায় প্রতিটা মোড়ে মোড়ে নতুন মন্দির গড়ে উঠেছে। মানুষের মধ্যে ভক্তি আর উৎসাহ দুটোই অনেক বেড়েছে।”
তরুণ প্রজন্মের নতুন ‘আইকন’ বজরংবলী
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বর্তমান প্রজন্মের যুবকদের মধ্যে হনুমানজির প্রতি এক বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। কেবল ধর্মীয় কারণ নয়, বরং শক্তি, সাহস, শৃঙ্খলা এবং নিঃস্বার্থ সেবার প্রতীক হিসেবে বজরংবলীকে নিজেদের ‘রোল মডেল’ হিসেবে দেখছে তারা।
এই প্রসঙ্গে স্থানীয় যুবক সুবিমল রায় বলেন, “বর্তমান সময়ে নানা প্রতিকূলতা আর মানসিক চাপের মধ্যে বজরংবলীকে আমরা অশুভ শক্তি এবং ভয় দূর করার রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখি। তাঁর আরাধনা আমাদের মনোবল বাড়ায় এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সাহস জোগায়।” এছাড়া ‘হনুমান চালিশা’ পাঠের মাধ্যমে মানসিক শান্তি ও আধ্যাত্মিক শক্তি লাভের আকাঙ্ক্ষাও তরুণদের এই উৎসবের প্রতি আরও বেশি টেনে আনছে।
আরও পড়ুন-হনুমান জয়ন্তীতেই ফিরবে ভাগ্য! বাড়ির এই ৪ দিকে বজরংবলীর ছবি রাখলেই মিলবে সাফল্য
কেন বাড়ছে এই জনপ্রিয়তা?
বিশেষজ্ঞ ও ভক্তদের মতে, এই জোয়ারের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ:
ভক্তি ও বিশ্বাসের পুনর্জাগরণ: জীবনের বাধা দূর করতে এবং সুখ-সমৃদ্ধির কামনায় হনুমানজির পূজার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
জ্যোতিষীয় তাৎপর্য: অনেক সময় হনুমান জয়ন্তীতে বিরল ‘পঞ্চগ্রহী মহাসংযোগ’-এর মতো যোগ তৈরি হয়, যা ভক্তদের কাছে দিনটির গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়।
সামাজিক মাধ্যম ও প্রচার: সোশ্যাল মিডিয়ায় হনুমানজির মহিমা এবং ইতিবাচক শক্তি প্রচারের ফলে উৎসবের আমেজ গ্রাম থেকে শহরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
সুরক্ষার প্রতীক: বর্তমান সময়ে হনুমানজিকে নেতিবাচকতা ও ভয় দূর করার পরম শক্তিশালী রক্ষাকর্তা হিসেবে গণ্য করা হয়।
সব শেষে-
শক্তির অধিপতি, বুদ্ধির আধার এবং রামভক্তির পরাকাষ্ঠা—হনুমানজি যেন আজ মালদার ঘরে ঘরে এক পরম আশ্রয়। পঞ্জিকা মতে বিশেষ তিথি মেনে জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আর বিশেষ প্রার্থনা। সব মিলিয়ে মালদা এখন অশুভ শক্তি বিনাশের কামনায় ‘জয় বজরংবলী’ ধ্বনিতে মুখরিত।





