কেন বাড়ছে ঢাকিদের চাহিদা
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক: গত বছরের দুর্গাপুজোর সেই বিষণ্ণতা এবার ঘুচতে চলেছে ভোট উৎসবে। ভিনরাজ্যে হেনস্থার ভয়ে যারা পুজোর মরশুমে ঢাক হাতে বাইরে যেতে সাহস পাননি, সেই মালদার ঢাকিদের ঘরে এবার অকাল লক্ষ্মীলাভ ঘটাচ্ছে বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রচার—সর্বত্রই এখন ঢাকের বাদ্যি আর ঢাকিদের কদর তুঙ্গে।
পুজোর লোকসান পুষিয়ে দিচ্ছে ভোট
মালদা জেলার ইংরেজবাজার, পুরাতন মালদা এবং মানিকচক এলাকায় কয়েক হাজার রবিদাস সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করেন, যাদের প্রধান জীবিকা ঢাক বাজানো। প্রতি বছর পুজোর সময় এরা দিল্লি, মুম্বই বা হরিয়ানার মতো বড় শহরগুলোতে পাড়ি দেন একটু বাড়তি উপার্জনের আশায়। কিন্তু গত বছর ভিনরাজ্যে বাঙালিদের ওপর আক্রমণের ঘটনার জেরে প্রাণের ভয়ে মালদার অধিকাংশ ঢাকি বাইরে যাওয়ার সাহস পাননি। ফলে পুজোর সময় তাদের পকেটে টান পড়েছিল।
তবে বর্তমান নির্বাচন সেই খরা কাটিয়ে দিয়েছে। ইংরেজবাজারের যদুপুর গ্রামের ঢাকি সুকুমার রবিদাস জানান, “এবার কোনো নির্দিষ্ট দল নয়, তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস বা বামফ্রন্ট—সব দলের প্রার্থীরাই মনোনয়ন দিতে যাওয়ার সময় আমাদের ডাকছেন। এমনকি পাড়ায় পাড়ায় ভোট প্রচারেও এখন ঢাকের চাহিদা প্রচুর।”
আরও পড়ুন- মালদায় অনুপ্রবেশ! স্টেশনেই ধরা দুই বাংলাদেশি, দক্ষিণে যাওয়ার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ
নির্বাচনী প্রচারে নতুন ট্রেন্ড
আগে ভোট প্রচারে মাইক বা ব্যান্ডের চল থাকলেও, এবার মালদায় ঢাকের ব্যবহার চোখে পড়ার মতো বাড়ছে। আরেক ঢাকি শ্যামল রজক বলেন, “মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন থেকে শুরু করে প্রতিদিনের মিছিলে আমাদের ডাক পড়ছে। ঢাকের আওয়াজে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সহজ হয় বলেই প্রার্থীরা আমাদের বেশি করে চাইছেন।”
নিরাপত্তা ও পরিচয়ের দাবি
পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী লোকশিল্পী সংঘের জেলা সম্পাদক অদ্বৈত বিশ্বাস ঢাকিদের এই আয়ের বৃদ্ধিতে খুশি হলেও কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, মালদা জেলায় প্রায় এক হাজারের বেশি ঢাকি রয়েছেন, যাদের অনেকের কাছেই এখনও সরকারি লোকশিল্পী পরিচয়পত্র নেই। অনেক সময় গভীর রাতে কাজ সেরে ফেরার পথে তাদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তাই ঢাকিদের নিরাপত্তার খাতিরে দ্রুত তাদের সরকারি স্বীকৃতি ও পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
নির্বাচনের দামামা বাজতেই মালদার ঢাকিদের অকাল ‘পুজো’ শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজনীতির রং যাই হোক না কেন, ঢাকের আওয়াজে এখন পকেট ভরছে সুধীর-হেমন্তদের।
মনে রাখার মতো তথ্য:
মালদা জেলায় প্রায় ১০০০-এর বেশি ঢাকি বাস করেন।
ভিনরাজ্যে হেনস্থার ভয়ে গত বছর পুজোয় ঢাকিরা বাইরে যাননি।
বর্তমান ভোট প্রচারে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছেই ঢাকিদের চাহিদা তুঙ্গে।
ঢাকিরা এখন দ্রুত সরকারি লোকশিল্পী কার্ডের দাবি জানাচ্ছেন।



