নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : প্রশাসনের চোখের সামনেই জলাশয় ভরাটের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল মালদার চাঁচল–২ ব্লকে। মালতীপুর ফুটবল মাঠ সংলগ্ন একটি পুকুর মাটি দিয়ে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে, আর সেই কাজ চলছে ভূমি সংস্কার দফতরের অফিস থেকে মাত্র কয়েক দশ মিটার দূরে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের পর দিন পুকুর বুজিয়ে দেওয়ার কাজ চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালতীপুর এলাকার ওই পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার জলনিকাশি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেই পুকুরে মাটি ফেলে ভরাট করার কাজ শুরু হয়। অভিযোগ, পুকুরের মালিক দ্বিজেন্দ্রনাথ দাস জমি মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই জলাশয়টি বুজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, যে স্থানে পুকুর ভরাটের কাজ চলছে, সেখান থেকে ভূমি সংস্কার দফতরের অফিসের দূরত্ব প্রায় ৫০ মিটারের মতো। অর্থাৎ প্রশাসনিক দফতরের একেবারে নাকের ডগায় এই বেআইনি কাজ চললেও তা আটকাতে কোনও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এমনকি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলেই দাবি করেছেন ব্লক ভূমি সংস্কার দফতরের এক আধিকারিক, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
পুকুর ভরাটের ফলে এলাকার পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, এই জলাশয় বুজিয়ে দেওয়া হলে বর্ষাকালে জল জমে যাওয়ার সমস্যা বাড়বে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে স্বাভাবিক জলনিকাশি ব্যবস্থা, পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলস্তরও নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং অবিলম্বে পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পরেও কাজ বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। শাসক ও বিরোধী শিবির একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপে সরব হয়েছে। কে এই পুকুর ভরাটের পেছনে রয়েছে, কার মদতে এই কাজ চলছে—তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তরজা।
এখন দেখার, প্রশাসন আদৌ কবে নড়েচড়ে বসে এবং পরিবেশ ও জলাশয় রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।





