নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রববেশ রুখতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে আবারও রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে মালদা জেলায়। অভিযোগ, সীমান্তের যেসব অংশে এখনও বেড়া বসানো হয়নি, সেখানে কাজ শুরু করতে জমি অধিগ্রহণ জরুরি। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিকবার রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠালেও, জমি অধিগ্রহণ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
এর ফলেই সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাস বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বহু কৃষক দেশরক্ষার স্বার্থে তাঁদের ফসলি জমি দিতে আগ্রহী। তবুও প্রশাসনিক স্তরে কাজের অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক গাফিলতির কারণেই সীমান্ত সুরক্ষা আজ প্রশ্নের মুখে।
খাস জমিতে অবৈধ নির্মাণের প্রতিবাদ, আইনজীবী তরুণীর পরিবারকে একঘরে করার অভিযোগ
মালদা জেলার ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের মোট প্রায় ১৭২ কিলোমিটার অংশের মধ্যে এখনও প্রায় ৩৮ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। জলপথ ও স্থলপথ মিলিয়ে এই অরক্ষিত অঞ্চলগুলি মূলত হবিবপুর ও বামনগোলা ব্লক এবং সংশ্লিষ্ট থানা এলাকার মধ্যে পড়ে। কাঁটাতার না থাকায় এই এলাকাগুলিকে অনুপ্রবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিএসএফ কাঁটাতারবিহীন এলাকাগুলিতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। সীমান্তবর্তী জমিতে কৃষকদের চাষাবাদ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য নিয়মিত টহল দিচ্ছেন বিএসএফ জওয়ানরা।
চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি মালদায় এক কর্মসূচিতে এসে নরেন্দ্র মোদি অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানান, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া সম্পূর্ণ করতে জমি অধিগ্রহণের জন্য রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রীয় সরকার পাঁচবার চিঠি পাঠিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হবিবপুর ব্লকের সিঙ্গাবাদ, তিলাসন ও জোত কোভির এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে জেলা প্রশাসন তাঁদের জমি মাপজোক করেছিল। কিন্তু এখনও জমি অধিগ্রহণ হয়নি। কোনও ক্ষতিপূরণও মেলেনি। কাঁটাতার না থাকায় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে দুষ্কৃতীরা এসে ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ। কৃষকদের দাবি, দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে বেড়া নির্মাণ করা হোক।
এই জমি অধিগ্রহণ ইস্যুতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক জুয়েল মুর্মু অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার জমি চাইলেও রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখছে। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশ রোধে আন্তরিক নয়।
অন্যদিকে, মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেস-এর মুখপাত্র আশিস কুন্ডু বিজেপির অভিযোগ খারিজ করেছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে মিথ্যে প্রচার করছে। রাজ্য সরকার দেশরক্ষার স্বার্থে সব সময় কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে হবিবপুর ব্লকের বিএলআরও স্বপন তরফদার জানিয়েছেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর জন্য কৃষকদের জমি ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করে মাপজোক করা হয়েছে। ধুমপুর, বৈদ্যপুর ও জাজল—এই তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়া চলায় কাজ কিছুটা থেমে রয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কৃষকদের জমি রেজিস্ট্রেশনের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।





