নিউজ বাজার২৪: সন্তান প্রসবের জন্য নার্সিংহোমে ভর্তি হয়ে ভয়াবহ ভুল চিকিৎসার শিকার হলেন এক গৃহবধূ। অভিযোগ, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ভুয়ো চিকিৎসক সেলাই করেন, আর মূল অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন একজন অর্থোপেডিক চিকিৎসক। প্রসবের পর থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় ওই প্রসূতির। পরে জানা যায়, তাঁর দু’টি কিডনি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
পরিবারের আরও গুরুতর অভিযোগ, এটি শুধু ভুল চিকিৎসা নয়—কিডনি পাচারের চেষ্টাও হতে পারে। ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয় পরিবার। আদালতের নির্দেশে অবশেষে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু হয়েছে।
কোথায় ও কবে ঘটনা?
ঘটনাটি মালদা জেলার রতুয়া থানার অন্তর্গত সামসি এলাকার সমাজসেবা নার্সিংহোমে।
২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট, পুখুরিয়া থানার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা রেশমিরা খাতুন প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি হন।
সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি শুরু হয়।
ঘূর্ণাবর্ত ফের সক্রিয়, সকাল থেকেই মেঘলা—দুপুর গড়ালেই বৃষ্টি বাংলাজুড়ে
অবনতি হলেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি অভিযোগ
পরিবারের অভিযোগ, প্রথমদিকে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তা গুরুত্ব দেয়নি। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাঁকে মালদা মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়।
সেখান থেকে পাঠানো হয় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।
দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৩ অক্টোবর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়। চিকিৎসকদের রিপোর্টে জানানো হয়—প্রসূতির দু’টি কিডনি সম্পূর্ণ নষ্ট।
বর্তমানে ওই গৃহবধূকে নিয়মিত ডায়ালিসিসে রাখা হয়েছে। শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
ভুয়ো চিকিৎসক দিয়ে সেলাইয়ের অভিযোগ
পরিবারের আরও অভিযোগ,
অপারেশনের সময় সেলাই করেছিলেন নার্সিংহোমের মালিক মো. আনারুল ইসলাম, যিনি কোনও স্বীকৃত চিকিৎসক নন
মূল অপারেশন করেন ডা. তাপস কুমার বণিক, যিনি একজন অস্থি চিকিৎসায় ডিপ্লোমাধারী (অর্থোপেডিক)
পরিবারের দাবি, সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য তিনি যোগ্য নন।
আদালতের নির্দেশে মামলা
রোগীর পরিবার মহকুমা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানায়। সুবিচারের আশায় দ্বারস্থ হয় আদালতের।
চাঁচল মহকুমা আদালতের বিচারকের নির্দেশে, চলতি মাসের ১৯ তারিখ নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করে রতুয়া থানার পুলিশ।
পরিবারের পক্ষ থেকে কিডনি পাচারের আশঙ্কা উল্লেখ করে পৃথক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের দাবিও তোলা হয়েছে।
নার্সিংহোমের সাফাই, প্রশ্ন স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকায়
যদিও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানে না বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে।
কিন্তু এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে—
জেলা জুড়ে কীভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো একের পর এক নার্সিংহোম গজিয়ে উঠছে?
যেখানে নেই পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, মানা হচ্ছে না নিয়ম, অথচ নজরদারি কোথায়?
রাজনৈতিক তরজা
ঘটনা সামনে আসতেই রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতা বিশ্বজিত রায়ের অভিযোগ, “এই রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার নামে মৃত্যুর ব্যবসা চলছে।”
অন্যদিকে তৃণমূলের জেলা সম্পাদক ক্রিশ্নেন্দু নারায়ন চৌধুরীর , অভিমত “প্রশাসন উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে।”





