Share on whatsapp
Share on twitter
Share on facebook
Share on email
Share on telegram
Share on linkedin

Malda :মালদা মালঞ্চর ত্রিশতম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন: এক স্মরণীয় নাট্যসন্ধ্যা

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on email
Share on telegram
Share on linkedin

দীপঙ্কর দত্ত: গত ২৬ শে আগস্ট, ২২ , মালদা মালঞ্চ উদযাপন করল তাদের ত্রিশতম প্রতিষ্ঠা দিবস । এই জন্মদিন উপলক্ষ্যে মালদা মালঞ্চ, মালদাবাসীকে কে উপহার দেয় এক বিশেষ নাট্যসন্ধ্যা। এ দিনের অনুষ্ঠান টি ছিল চারটি পর্বে বিভক্ত। প্রথমে,মালদা কলেজ অডিটরিয়াম, দুর্গাকিঙ্কর সদনে, ইংরেজবাজার পৌরসভার পৌরপিতা ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যাক্তি বর্গের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা।
দ্বিতীয় পর্বে মালদা জেলার এগারো জন নাট্য পরিচালককে মালদা মালঞ্চ সম্মাননা প্রদান করা হয়। মালদা মালঞ্চ কর্তৃক সম্মানিত হলেন বিষাণ একটি নাট্যদলের পরিচালখ তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, মালদা থিয়েটার প্ল্যাটফর্মের সুব্রত পাল, সামসী কলেজ নাট্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মনোজ ভোজ, মালদা ড্রামাটিক ক্লাবের দেবাশীষ ভুতি, চাঁচল অপাঙ্কতেয়র জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, মালদা অন্যরঙ্গের সৌমেন ভৌমিক, ফিনিক্স দ্য এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটারের অনুরাধা কুন্ডা,মালদা আগামীর জয়ন্ত বিশ্বাস, মহাদেবপুর আর্ট এন্ড কালচারের গোপাল ছেত্রী, মালদা নাট্যসেনার কেদার-দীপঙ্কর-মেহেদী, এবং গৌড়বঙ্গ ইউনিভার্সিটি ড্রামা ক্লাবের সমীপেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃতীয় পর্বে বিশিষ্ট নাট্য গবেষক, নাট্য চিন্তক আশীষ গোস্বামী ‘ কৃত্যের মুকুরে নাট্য’ শীর্ষক একটি মনোজ্ঞ বক্তব্য পরিবেশন করেন। তিনি তার আলোচনায় লক ডাউন পরবর্তী সময়ে নাট্যের ভাষা ও ফর্ম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন ।
চতুর্থ তথা শেষ পর্ব ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ । এই পর্বে ছিল মালদা মালঞ্চর দুটি নতুন নাটক ।
স্বল্প দৈর্ঘ্যের এই নাটক দুটির পরিচালনার ভার তুলে নিয়েছিলেন মালদা মালঞ্চর অন্যতম প্রধান অভিনেতা, জয়রাজ ত্রিবেদী। যদিও জয়রাজ ত্রিবেদী এর আগেও দুটি নাটক পরিচালনা করেছেন। তবুও মালদা মালঞ্চর নাট্যনির্দেশনায় মালদা,তথা রাজ্যবাসী মালঞ্চর প্রাণ পুরুষ পরিমল ত্রিবেদী কে দেখতেই অভ্যস্ত। তাই কৌতুহল ছিল জয়রাজ ত্রিবেদী, তার অগ্রজ পরিচালকের লেগাসি কত টা বহন করতে পারেন তা নিয়ে। আর এখানেই জয়রাজ চমকে দিয়েছেন ।
স্বল্প দৈর্ঘ্যের প্রথম নাটক এপারে । এই নাটকে পরিচালক যে নাট্যভাষার জন্ম দেন তা মালদা মালঞ্চর অন্যান্য নাটকের থেকে একেবারেই স্বতন্ত্র। অ্যালবের কামু তার বিখ্যাত মিথ অফ সিসিফাস গ্রন্থ শুরু করেন এই দাবি করে যে পৃথিবী তে একমাত্র এক দার্শনিক প্রশ্ন হলো , আত্ম হননের প্রশ্ন।অর্থ হীন ও যুক্তি হীন এই পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে মানুষ কেন আত্মহত্যা করবে না?
অ্যালবের কামু কোনো আশাবাদের কথা শোনান নি। তবুও কামুর মতে আত্মহত্যা এক দার্শনিক ভ্রান্তি।বিভিন্ন দার্শনিক সংলাপ পেরিয়ে কামুর যুক্তি ছিল এই যে জীবনের অর্থ হীনতা বা আত্নহত্যার সপক্ষে যা কিছু যুক্তি সেসবই এই পৃথিবী তে মানুষের অস্তিত্বের উপরেই নির্ভরশীল। জীবন না থাকলে ওই যুক্তি,বা জীবনের যুক্তি হীনতা কোনো কিছুরই কোনো অস্তিত্ব নেই । জীবনের সব হিসেব নিকেষ সব রয়েছে এপারেই। ওপার বলে কিছু নেই । এই কথা গুলোই মনে হলো জয়রাজ ত্রিবেদী নির্দেশিত, মালদা মালঞ্চ প্রযোজিত নাটক’এপার’ দেখতে বসে। একটি মেয়ে মঞ্চে প্রবেশ করে, মঞ্চসজ্জা একটি সেতুর আভাস দেয়, বেশ কিছু মুহুর্ত সংলাপ হীন, শুধু অভিব্যক্তি, আবহ ও আলোর মিশেলে একটি টেন্সড মুহুর্ত তৈরি হয়। আমরা জানিনা মেয়ে টি কে , তার নাম ,পেশা,বা অন্য কোনো পরিচয় । শুধু বুঝতে পারি একজন মানুষ তার যন্ত্রণার বাঁধ ভাঙার মুহূর্তে , জীবন মৃত্যুর সূক্ষ্ম সুতোয় , অন্তিম সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রাক মুহূর্তে দাড়িয়ে ।তার দেখা হয় এক মৃত মানুষের সঙ্গে যে মানুষ কিছুক্ষণ আগেই আত্মহত্যা করেছে । এই মুহুর্তের দ্বন্দ্বকে তুলে ধরে মনোজ অভিনীত এই চরিত্র টি। এই চরিত্র টি বলে মৃত্যু মানেই শূন্যতা , ‘ ওপার বলে কিছু নেই , অন্তিম শ্বাস সুন্দর । এই পুরুষ চরিত্র টি হয়তবা বা নারী চরিত্র টিরই আরেক সত্তা ও তার অন্তর্দ্বন্দ্বের রূপক ।
মূল দুই চরিত্রে মনোজ হালদার ও নবাগতা অন্বেষা যেভাবে দর্শক দের বুঁদ করে রাখেন তা তারিফযোগ্য। পুলিশ অফিসারের ছোট্ট ভূমিকায় অসীম চৌধুরী বরাবরের মতোই সাবলীল । গোলক সরকারের মঞ্চ ও বিশ্বজিৎ রবিদাসের আলো যথোপযুক্ত। দেবরাজ ত্রিবেদীর আবহ এই নাট্যের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে । এই সময়ে যখন তরুণ, যুবক, প্রৌঢ় নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে জাঁকিয়ে বসছে অবসাদ,চেনা মানুষ দের আত্মহননের সংবাদ ক্রমশ স্বাভাবিক ঘটনার রূপ নিয়েছে, সেই সময়ে এই ধরনের ব্যতিক্রমী নাট্য নির্মাণের জন্য নাট্যকার তথা নাট্য নির্দেশক জয়রাজ ত্রিবেদীকে কুর্নিশ জানাতেই হয় ।
এই দিনের দ্বিতীয় নাটক ‘সকাল বেলার বেলার রোদ্দুর।’ এক ঝাঁক শিশু অভিনেতার অভিনয়ে সমৃদ্ধ এই নাটক দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। রিতন্যা, অভিনব, সোমরাজ, ঋতুরাজ, ঋষি ,সম্পূর্ণা, কৌশানী, অঙ্কিত, মেধা, দেবমিতা রা মঞ্চে নিয়ে আসে ফুরফুরে তাজা বাতাস । বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে স্মার্ট ফোন কিভাবে বুনে দিচ্ছে আত্মকেন্দ্রিকতা র বীজ,এই বিষয় নিয়েই এই নাট্য ‘সকাল বেলার রোদ্দুর’। সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন গেমস, মোবাইল গেমসের মায়ায় আজকের ছোট রা ভুলেছে সবুজ ঘাসের জাদু স্পর্শ। দল বেঁধে খোলা মাঠে খেলা, প্রকৃতির ছোঁয়ায় যে মায়া, যে আনন্দ রয়েছে তা তাদের অজানা। এই ছোট দের ভবিষ্যত আমরা দেখতে পাই ভবা অর্থাৎ ভবিষ্যতের বাচ্চা চরিত্র টির মধ্যে দিয়ে । ভবা এমন একটি চরিত্র যার মেরুদন্ড নেই, যার শরীরে নেই শক্তি , মনে নেই স্ফূর্তি। এই ভয়াবহ ভবিষ্যত চোখে আঙ্গুল দিয়ে তুলে ধরেন নির্দেশক , নাট্যকার জয়রাজ ত্রিবেদী। অত্যন্ত সিরিয়াস এই নাটকটির টি যদিও পরিবেশিত হয় অনাবিল হাস্যরস এর মোড়কে। হেড মাষ্টারের চরিত্রে ঋষি তথা অর্যমাণ, হেড মাষ্টারের ছোট বেলার মুহূর্তে সোম রাজ, ভবার চরিত্রে ঋতুরাজ অনবদ্য। অন্যান্য শিশু অভিনেতারাও তাদের বাচিক ও শারীরিক অভিনয়ে, গান,পারস্পরিক বোঝাপড়ায় দর্শকের মনে গভীর রেখাপাত করেন ।
মালদা মালঞ্চ কে ধন্যবাদ তাদের ত্রিশতম জন্মদিন এই ভাবে স্মরণীয় ও উপভোগ্য করে তোলবার জন্য।

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on email
Share on telegram
Share on linkedin

Latest News