Newsbazar24:: মালদহের তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি ও কাউন্সিলর দুলাল সরকার খুনে গ্রেপ্তার তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা। দীর্ঘ ২২ ঘন্টা ম্যারাথন জেরার পর মালদহ শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি ও তৃণমূল নেতা স্বপন শর্মা কে গ্রেফতার করা হল। এ নিয়ে দুলাল সরকার খুনে গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৭। নিহত দুলাল সরকারের স্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন দলীয় কেউ জড়িত। নন্দু তেওয়ারীর গ্রেফতারে সেই সন্দেহ আরো জোরালো হল বলে মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূলের ইংরেজবাজার শহর সভাপতি ও ইংরেজবাজার পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি এবং তাঁর দুই ভাই বীরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি ও অখিলেশ তেওয়ারিকে মঙ্গলবার দুপুরে ইংরেজবাজার থানায় ডেকে পাঠান তদন্তকারী আধিকারিকরা। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ চলে। রাতে থানায় পৌঁছান পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদব। রাতভর জেরা শেষে সকালে থানা থেকে বেরিয়ে যান পুলিশ সুপার। এরপরই নরেন্দ্রনাথ বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে, স্বপন শর্মা নামে এক তৃণমূল নেতাকে।
জমি দখল ও আর্থিক লেনদেনের কারণেই এই হত্যা বলে পুলিশের অনুমান।
বুধবার গ্রেফতারির পর থানা থেকে বার করার সময় ইংরেজবাজার শহর তৃণমূল সভাপতি নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি দাবি করেন তাকে ফাঁসানো হয়েছে এর পিছনে বড় মাথা রয়েছে বারবার তিনি এই কথা বলতে থাকেন। স্বপন শর্মা ও একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন।
বাবলা সরকারের স্ত্রী চৈতালি দেবী গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বলেন, আমার সন্দেহ অনেকের উপরেই রয়েছে তবে মনে হয় পুলিশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে। আমার পুলিশের উপর ভরসা আছে পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও জানতে চাইছে কারা আসল অপরাধী। তবে তিনি কারো নাম করতে চাননি।
এ ব্যাপারে জেলা তৃণমূল নেতা এবং ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বিস্ফোরক উক্তি করেন তিনি বলেন, নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি অনেকেই বলেছেন আমি দুলাল সরকারকে মারবো। স্বাভাবিকভাবেই তারাও পুলিশকে জানিয়েছিল। তিনি আরো জানান নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি তার ভাই আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে এখানে একটা গোষ্ঠী তৈরি করছিলেন। এলাকা দখল নিয়েই বিবাদ। ওই এলাকার কাউন্সিলর দুলাল সরকার তিনি এতে বাধা দিয়েছিলেন এছাড়াও তেওয়ারি ভোটে দাঁড়াতে পারেননি সেই রাগেই হয়তো খুন।
দ্বিতীয় অভিযুক্ত স্বপন শর্মা একজন পেশাদার কন্ট্রাক্ট কিলার, যিনি একাধিকবার তার উপরও হামলা চালিয়েছেন। তিনি এটি কোনও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়, বরং স্বার্থসিদ্ধির জন্য করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান এরা দুজন মিলেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ২০২২ সালে পৌরসভা ভোটের পর নন্দু তেওয়ারি ও দুলাল সরকারের সমর্থকদের মধ্যে গন্ডগোলের পর দুলালের সিকিউরিটি তুলে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রভাবশালী কোন নেতার চাপে পড়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তিনি অবশ্য তার নাম জানাতে চাননি তিনি বলেন একমাত্র নেত্রীকেই বলবেন। এদিন ধৃত দুইজনকে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করা হলে তিনি দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করে আদালত।



