Newsbazar24 :র্যাপ করে চটুল মিউজিক বাজিয়ে জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগ উঠল জেলা তৃণমূল সভাপতির বেসরকারি স্কুলের মেলার অনুষ্ঠানে। এই নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।
বেসরকারি স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিগত ৪ঠা জানুয়ারি থেকে পাঁচদিনের মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে নাম দেওয়া হয়েছে ‘আমার মেলা’৷
সেই স্কুলের মালিক স্বয়ং তৃণমূলের জেলা সভাপতি আর তাঁর ছেলে তথা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ ৷
সেই মেলায় বৃহস্পতিবার রাতে এক সংগীত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয় বিকৃতভাবে। এই বিকৃত গানের ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সর্বত্র। তারপরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। আব্দুল রহিম বক্সি এই ঘটনার কথা জানতে পেরে টেলিফোনে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে জানান, তিনি অন্য কাজে জেলার বাইরে ছিলেন। এই ধরনের ঘটনা যদি কোন শিল্পী ঘটিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।
এ বিষয়ে চাঁচল সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক সাগরনীল চট্টোপাধ্যায় জানান, জাতীয় সংগীত বিকৃত করার ঘটনা খুবই লজ্জার, সমাজের কাছে ভুল বার্তা তুলে ধরছে। সব গান র্যাপ ভার্সানে গাওয়া যায় না। এটা আমাদের সকলকে প্রতিবাদ করে বোঝানো উচিত। এতে দেশের জাতীয় সঙ্গীত বিপন্ন হয়েছে ৷এই সঙ্গীত আমাদের বুকের ভিতর তোলপাড় করে ৷ আমাদের নতুন কাজ করতে উৎসাহ জোগায় ৷ সবচেয়ে বড় বিষয়, যে স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার পর দিনের কাজ শুরু হয়, সেখানেই এমন লজ্জার ঘটনা ঘটেছে ৷
এলাকার বাসিন্দা সংস্কৃতিপ্রেমী দীপক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এভাবে জাতীয় সঙ্গীতকে নিয়ে ছেলেখেলা করায় আমি আশ্চর্য ৷ এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ ৷ এটা এখনও বাংলাদেশ হয়ে যায়নি ৷ ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সঙ্গীতকে নিয়ে আমরা যা ইচ্ছে তাই করতে পারি না,এই ঘটনায় আমি মর্মাহত ৷ আমি আরও মর্মাহত র্যাপ ভার্সানে জাতীয় সঙ্গীত যেখানে গাওয়া হচ্ছে, সেই আসরে উপস্থিত মানুষজন হাততালি দিচ্ছেন। এভাবে চললে রাষ্ট্র তাড়াতাড়ি বিপন্ন হয়ে যাবে ৷ এই ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ করা উচিত ৷ প্রশাসনের উচিত, গায়ক-সহ ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া পদক্ষেপ করা ৷ এখানে শিক্ষার কী হাল, এই ঘটনায় তা সামনে এসেছে ৷”
এলাকার বাসিন্দা তথা বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য অভিষেক সিংহানিয়া জানান, “এই মেলার আয়োজক ছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বকসি ৷ সেই মেলার মঞ্চে ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করা হয়েছে ৷ আমি ধিক্কার জানাচ্ছি ৷ শিক্ষার অভাবের জন্য এই ঘটনা ঘটেছে ৷ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া, জাতীয় পতাকার সম্মান করা কতগুলো নিয়ম রয়েছে ৷ জাতীয় প গতকাল যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এখন দেখার বিষয় এই বিকৃত জাতীয় সংগীত গাওয়ার অপরাধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন মালদা প্রশাসন।



