নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক, মালদহ: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার আশায় বারবার আবেদন। দুয়ারে সরকার শিবিরে নাম নথিভুক্ত করা। ব্লক অফিসে লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা দেওয়া। তবু মিলল না ভাতা, এল না আবাসের ঘর। এই ক্ষোভেই শনিবার উত্তাল হয়ে উঠল মালতীপুর বিধানসভার চাঁচল–২ ব্লকের পুরাতন খানপুর গ্রাম।
গ্রামবাসীদের দাবি, প্রায় ৩০০টি পরিবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা ও আবাস যোজনার মতো একাধিক সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত। বারবার আবেদন করেও মিলছে না সাড়া। অবশেষে একজোট হয়ে প্রতিবাদে সামিল হলেন গ্রামের মানুষ।
আরও পড়ুন-পরীক্ষার কারণে রাজ্যে সাধারণ ধর্মঘট নয়, মালদায় শিল্প ধর্মঘটে পথে নামল ট্রেড ইউনিয়নগুলি
“ছ’বার আবেদন করেছি, তবু ভাতা বন্ধই”
৭০ বছরের মহম্মদ সিরাজুদ্দিনের কণ্ঠে ক্ষোভ আর ক্লান্তির মিশেল। “ছ’বার আবেদন করেছি। দুয়ারে সরকার শিবিরে গেছি, ব্লক অফিসে গেছি। কিন্তু আজও বার্ধক্য ভাতা চালু হল না,”—বলতে বলতেই চোখে জল তাঁর।
একই অভিযোগ কোহিনুর খাতুন ও নিনোনি খাতুনের। কোহিনুরের কথায়,
“প্রায় ২০ বার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু আমরা কংগ্রেস করি বলে ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।”
মনোয়ারা বিবি অভিযোগ করেন, শুধু ভাতাই নয়, আবাস যোজনার ঘর থেকেও তাঁদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক রং কি ফ্যাক্টর?
গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেসকে ভোট দেওয়াতেই তাঁরা শাসকদলের রোষানলে পড়েছেন। স্থানীয় কংগ্রেস পঞ্চায়েত সদস্য রাজীব আলিও সেই অভিযোগে সুর মিলিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য,
“আমি কংগ্রেস থেকে জয়ী হওয়ায় এলাকায় উন্নয়ন আটকে দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে ব্লক অফিস ঘেরাও করা হবে।”
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মালতীপুরের বিধায়ক তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বকসি। তাঁর সাফ কথা,
“সরকারি প্রকল্প সবার অধিকার। দল দেখে কোনও কাজ হয় না।”
প্রশাসনের অবস্থান
চাঁচল–২ ব্লকের বিডিও শান্তনু চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর কাছে নতুন। কোনও নির্দিষ্ট গ্রাম এভাবে বঞ্চিত হওয়ার কথা নয় বলেই মত তাঁর। তবে গ্রামবাসীদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা ও প্রাপ্যতার দাবি
রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি দাবির মাঝখানে দাঁড়িয়ে পুরাতন খানপুরের মানুষের একটাই প্রশ্ন—
সরকারি প্রকল্প কি সত্যিই সবার জন্য? নাকি ভোটের অঙ্কেই বদলে যায় প্রাপ্যতা?
বৃদ্ধদের ভাতা, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, গরিব পরিবারের মাথার ওপর ছাদ—এসবই জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা। সেই নিরাপত্তা নিয়েই যদি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তবে ক্ষোভের আগুন ছড়ানো অস্বাভাবিক নয়।
এখন দেখার, প্রশাসনিক তদন্তে কী উঠে আসে এবং সত্যিই কি ৩০০ পরিবার তাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পায়।





