মহাশিবরাত্রিতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ
নয়াদিল্লি, ১৫ ফেব্রুয়ারি: পবিত্র মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালেন উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার সকালেই দু’জনেই সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছাবার্তা পোস্ট করে দেশবাসীর মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভগবান আদিদেব মহাদেবের কাছে প্রার্থনা জানিয়ে লেখেন, মহাদেবের কৃপায় দেশবাসীর জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি নেমে আসুক। তিনি আরও বলেন, “মহাদেবের আশীর্বাদে আমাদের ভারত উন্নতির শিখরে পৌঁছাক।” প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় দেশের সার্বিক অগ্রগতি ও কল্যাণের কথাই বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন তাঁর শুভেচ্ছাবার্তায় মহাশিবরাত্রির আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কাশী থেকে রামেশ্বরম পর্যন্ত এই পবিত্র উৎসব ভারতের চিরন্তন ও অবিচ্ছিন্ন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক। তাঁর কথায়, এই উৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক ঐক্য ও আধ্যাত্মিক ধারাবাহিকতারও প্রতিফলন। উপরাষ্ট্রপতি দেশবাসীর উদ্দেশে প্রার্থনা করেন, মহাদেব ও মা পার্বতীর আশীর্বাদে সকলের জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য বিরাজ করুক।
আরও পড়ুন-তিন দশক পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে, নিরঙ্কুশ জয়ে ক্ষমতায় বিএনপি—দায়িত্বে তারেক রহমান
মহাশিবরাত্রি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব। বিশ্বাস করা হয়, এই তিথিতেই ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। দেশজুড়ে এই দিন ভোর থেকে শুরু হয় বিশেষ পূজা, উপবাস ও আরাধনা। শিব মন্দিরগুলিতে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। অনেক জায়গায় সারারাত জেগে শিব নামসংকীর্তন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মহাশিবরাত্রি ঘিরে উৎসবের আবহ স্পষ্ট। কাশী, উজ্জয়িনী, সোমনাথ, রামেশ্বরম-সহ বহু তীর্থস্থানে লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমবেত হন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই পবিত্র দিনে রাষ্ট্রের শীর্ষ দুই সাংবিধানিক পদাধিকারীর শুভেচ্ছাবার্তা দেশবাসীর মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও ভক্তিভাবকে আরও জোরদার করেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মহাশিবরাত্রির এই শুভক্ষণে দেশজুড়ে শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধির কামনাই প্রধান সুর।





