নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ হিন্দু ধর্মে মহা শিবরাত্রি এক অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ উৎসব। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশ তিথিতে এই ব্রত পালিত হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে শিবলিঙ্গ পূজা, উপবাস ও জাগরণের মাধ্যমে ভগবান শিবের কৃপালাভ করা যায়। কিন্তু এই উৎসবের পেছনে একাধিক গভীর পুরাণকথা ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা রয়েছে।
ব্রহ্মা–বিষ্ণুর শ্রেষ্ঠত্ব বিতর্ক ও শিবের আবির্ভাব
পুরাণে বর্ণিত একটি কাহিনী অনুসারে, একবার সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা ও পালনকর্তা বিষ্ণুর মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ—তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। এই বিতর্ক ক্রমে সংঘর্ষের রূপ নেয়। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে অন্যান্য দেবতা আশঙ্কা করেন, এই দ্বন্দ্ব বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
তখন সকল দেবতার অনুরোধে ভগবান শিব হস্তক্ষেপ করেন। তিনি এক বিশাল, অনন্ত আলোর স্তম্ভের রূপে আবির্ভূত হন এবং ব্রহ্মা ও বিষ্ণুকে সেই স্তম্ভের শুরু ও শেষ খুঁজে বের করতে বলেন। কিন্তু কেউই তার সীমা খুঁজে পাননি। তখনই তারা উপলব্ধি করেন—শিবই পরম সত্য ও সর্বশক্তিমান। এই ঘটনাই লিঙ্গোদ্ভব কাহিনী নামে পরিচিত, যা মহা শিবরাত্রির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
আরও পড়ুন- মহাশিবরাত্রি ও শিবরাত্রি: পার্থক্য
সমুদ্র মন্থন ও হলাহল বিষ পান
মহা শিবরাত্রির সঙ্গে যুক্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পুরাণকথা হল সমুদ্র মন্থনের কাহিনী। দেবতা ও অসুরদের সমুদ্র মন্থনের সময় উঠে আসে এক ভয়ংকর বিষ—হলাহল। এই বিষ সমগ্র বিশ্ব ধ্বংস করতে পারত।
বিশ্বকে রক্ষা করার জন্য ভগবান শিব সেই বিষ নিজ কণ্ঠে ধারণ করেন। তাঁর কণ্ঠ নীলবর্ণ ধারণ করায় তিনি নীলকণ্ঠ নামে পরিচিত হন। এই আত্মত্যাগ ও করুণার স্মরণে ভক্তরা মহা শিবরাত্রিতে উপবাস ও আরাধনার মাধ্যমে শিবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শিব ও পার্বতীর ঐশ্বরিক বিবাহ
অন্য এক কিংবদন্তি অনুযায়ী, মহা শিবরাত্রির দিনেই ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর পবিত্র বিবাহ সম্পন্ন হয়। এই মিলন শক্তি ও চেতনার এক মহাজাগতিক সংযোগের প্রতীক। তাই এই দিনটি দাম্পত্য সুখ, পারিবারিক স্থিতি ও আধ্যাত্মিক পূর্ণতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।
আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে মহা শিবরাত্রি
শাস্ত্র মতে, মহা শিবরাত্রির রাত ধ্যান ও আত্মশুদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, এই রাতে জাগরণ ও শিবনাম স্মরণ করলে অজ্ঞতা দূর হয় এবং আত্মিক জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয়। তাই এই উৎসব কেবল ধর্মীয় নয়, আধ্যাত্মিক সাধনারও এক বিশেষ দিন।





