নীরব বিপর্যয়ের পথে পৃথিবী? ২০২৪ শেষে শুরু হওয়া লা নিনার প্রভাব ২০২৫–২৬ জুড়ে ভয় বাড়াচ্ছে
NASA-র বিজ্ঞানীরা জানিয়েছে, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি দুর্বল লা নিনা পরিস্থিতি গড়ে উঠতে শুরু করেছে, যার প্রধান প্রভাব পড়তে পারে ২০২৫ সালে এবং অনেক ক্ষেত্রে এর রেশ ২০২৬ সাল পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। নামের সঙ্গে “দুর্বল” শব্দটি থাকলেও, বিজ্ঞানীদের মতে বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে এই লা নিনাকে হালকাভাবে নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
লা নিনা হল এল নিনো–সাদার্ন অসিলেশন (ENSO) চক্রের একটি ধাপ। এই পর্যায়ে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাতাসের গতিপথে, মেঘের চলাচলে এবং বিশ্বজুড়ে বৃষ্টি ও তাপমাত্রার ধরনে। এর আগের ধাপে, অর্থাৎ ২০২৩–২৪ সালে শক্তিশালী এল নিনোর জেরে বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ দেখা গিয়েছিল। সেই চরম গরমের পরেই এখন পৃথিবী ঢুকছে লা নিনার পর্যায়ে।
হিমালয়ে জমছে বিপজ্জনক চাপ, যেকোনও সময় বড় ভূমিকম্প !নতুন গবেষণা
নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৫ সাল হবে এই লা নিনার মূল প্রভাবের বছর। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বৃষ্টিপাতের ধরণ অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। ভারতীয় উপমহাদেশে কোথাও অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে, আবার কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি কম হওয়ায় কৃষিতে ধাক্কা লাগতে পারে। শহরাঞ্চলে জল জমে যান চলাচল বিপর্যস্ত হওয়া, গ্রামাঞ্চলে ফসল নষ্ট হওয়া এবং নদীগুলির জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল ও উত্তর আমেরিকার দক্ষিণাংশে উল্টো ছবি দেখা যেতে পারে। সেখানে দীর্ঘস্থায়ী খরা, পানীয় জলের সংকট এবং দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, একই সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বন্যা ও খরা—এই বৈপরীত্যই লা নিনার সবচেয়ে ভয়ংকর দিক।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার ক্ষেত্রেও ২০২৫–২৬ সালে লা নিনার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। লা নিনার সময় শক্তিশালী বাণিজ্যিক বায়ু সমুদ্রের জল পশ্চিম প্রশান্তের দিকে ঠেলে দেয়। এর ফলে কিছু উপকূল এলাকায় জলস্তর বাড়তে পারে, যা উপকূল ভাঙন, নোনা জলের অনুপ্রবেশ এবং দ্বীপাঞ্চলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
প্রায় প্রতিদিনই খড়গপুর-হাটিয়া প্যাসেঞ্জারে যাতায়াত করছে এক হনুমান
শীতকালেও বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর আমেরিকা ও কানাডায় তীব্র ঠান্ডা ও অতিরিক্ত তুষারপাত হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও পরিবহণে। ইউরোপে প্রভাব তুলনামূলক কম হলেও উত্তর ইউরোপে ঠান্ডা হাওয়ার প্রবাহ বাড়তে পারে।
নাসার বিজ্ঞানীদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা—২০২৪ শেষে শুরু হওয়া এই লা নিনা ২০২৫ সালে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং ২০২৬ সালেও তার রেশ থেকে যেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে এই ধরনের “দুর্বল” ঘটনাও ধীরে ধীরে বড় বিপর্যয়ের রূপ নিতে পারে। তাই কৃষি, জলসম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এখন থেকেই প্রস্তুতি না নিলে ভবিষ্যতে এর মূল্য দিতে হতে পারে বিশ্বকে।





