news bazar 24 : খেলার ছলে শুরু হয়েছিল এক ঐতিহ্য, আর আজ তা পৌঁছেছে ২১৫ বছরে! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার খরার পুরসভার পানপাড়া এলাকায় একদা কয়েকজন বন্ধু মিলে শুরু করেছিলেন এক ছোট্ট কালীপুজো। সময়ের সঙ্গে সেই পুজো আজ রূপ নিয়েছে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের বনেদি বাড়ির পূজোয়।
প্রতি বছর দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে মাটির মা কালীর প্রতিমা তৈরি হয় বাড়ির দালানে। সযত্নে চলে সাজসজ্জা, ঢাকের বাদ্যি ও ধূপধুনোর গন্ধে ভরে ওঠে আঙিনা। বাড়ির প্রত্যেক সদস্য এই পুজোয় অংশ নেন, এবং প্রতিমা নিরঞ্জনের দিনে সিঁদুর খেলায় মাতেন সবাই।
বর্ধমানের রামনন্দী চৌধুরী এস্টেটে ২৩০ তম আদি শ্যামা কালীপুজো
পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের কথায় জানা যায়, পুজোর প্রথম বছরে দুই বন্ধু একসঙ্গে উদ্যোগ নেন — একজন প্রতিমা তৈরির, অন্যজন পুজোর সামগ্রী জোগাড়ের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময়েই দেবী মা স্বপ্নে দর্শন দিয়ে জানান, তাঁকে শোল মাছ পোড়া ভোগ নিবেদন করতে হবে। সেই নির্দেশ আজও অক্ষুণ্ণ — প্রতিবছর শোল মাছ পোড়িয়ে ভোগ দেওয়া হয় দেবীকে।
এই পুজোয় কালীকে শুধু ভয়ংকরী নয়, বরং মমতাময়ী মা রূপে দেখা হয়। পরিবারের বিশ্বাস, শোল মাছের ভোগে মা কালী সন্তুষ্ট হন ও সংসারে শান্তি বর্ষণ করেন।
ভূত চতুর্দশী মানে কী? চোদ্দো শাক ও চোদ্দো প্রদীপের রহস্য জানুন
খরারের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের এই বনেদি পুজো আজও এলাকার মানুষের কাছে গর্বের বিষয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী পার হয়ে এই পূজা এখনও জীবন্ত রাখে সেই প্রথম বন্ধুত্বের শুরু আর দেবী মায়ের আশীর্বাদের কাহিনি।






