শীতের সকালে হাজার হাজার কেজি মাছ বিক্রি, বাংলার বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ঢল
নিউজ বাজার২৪ ঃ বিশাল এলাকা জুড়ে বসেছে মেলা। চারদিকে শুধুই মাছ—চুনো পুঁটি থেকে শুরু করে ৫০ কেজি ওজনের বিশাল মাছ। নিমেষের মধ্যে ফুরিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কেজি মাছ। রাঘব বোয়াল, টুনা, লালমোহন, শঙ্কর থেকে পোনা—নানা প্রজাতির ও নানা ওজনের মাছ কিনতে ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে হুগলীর কেষ্টপুর-এর ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা।
বাংলা মাঘ মাসের প্রথম দিন, অর্থাৎ মকর সংক্রান্তির পরের দিন পয়লা মাঘে এই মেলা বসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক ৫১৯ বছরের পুরনো এই মাছের মেলা কেষ্টপুরের রঘুনাথ দাস গোস্বামীর বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ভোর থেকেই মেলায় ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ে।
মালদা থেকে একের পর এক ট্রেন সরানোয় ক্ষোভ, রেলমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি ব্যবসায়ী সংগঠনের
এবছর মেলায় বিশেষ আকর্ষণ ৫০ কেজি ওজনের শঙ্কর মাছ, ৩৫ কেজির কাৎলা, প্রায় ৪০ কেজির ভোলা, পাঁচ ফুট লম্বা বাইন, নানা ওজনের রুই। পাশাপাশি ইলিশ, ভেটকি, বোয়াল তো রয়েছেই। এছাড়াও ছোট-বড় বিভিন্ন ওজনের কাঁকড়াও মিলছে মেলায়।
মাছের পাশাপাশি মেলার অন্য আকর্ষণও কম নয়। জিলিপি, বাদাম, ঝুঁড়ি, পিঁড়ি, কুলো থেকে শুরু করে মনোহারি সামগ্রীর দোকানেও ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই মাছ কিনে পাশের আমবাগানে শীতের আমেজে বনভোজনের আয়োজন করছেন।
রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভোটে নামছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা?
মেলার ইতিহাস
কথিত আছে, কেষ্টপুরের তৎকালীন জমিদার গোবর্ধন গোস্বামীর ছেলে রঘুনাথ দাস গোস্বামী সন্ন্যাস গ্রহণ করে সংসার ত্যাগ করেছিলেন। তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিষ্য ছিলেন। বয়স কম হওয়ায় পানিহাটিতে দীক্ষা না পেয়ে দীর্ঘ ন’মাস পরে বাড়ি ফেরেন। ছেলের ফিরে আসার আনন্দে গোবর্ধন গোস্বামী গ্রামের মানুষকে ভোজের আয়োজন করেন। ভক্তদের আবদারে কাঁচা আমের ঝোল ও ইলিশ মাছ পরিবেশন করা হয়। বাড়ির পাশের আমগাছ ও জলাশয় থেকেই সেই খাবারের ব্যবস্থা হয়—সেই ঐতিহ্য থেকেই এই মাছের মেলার সূচনা। প্রতি বছর এই দিনে রাধাগোবিন্দ মন্দিরে পুজো দিতে ভক্তদের ভিড় জমে। হুগলি ছাড়াও বর্ধমান, হাওড়া, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া-সহ বিভিন্ন জেলা থেকে মাছ বিক্রেতারা আসেন। সব মিলিয়ে একদিনের এই মেলায় উৎসবের আবহে মেতে ওঠে গোটা কেষ্টপুর এলাকা।



