নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ দিল্লির বহুল আলোচিত আবগারি নীতি মামলায় বড় আইনি স্বস্তি পেলেন আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব। রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং রায় ঘোষণা করে জানান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল ও প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ তদন্তকারী সংস্থা হাজির করতে পারেনি। ফলে দু’জনকেই বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ কী?
রায়ে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে শক্ত প্রমাণ প্রয়োজন। কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে ‘মূলচক্রী’ বা ষড়যন্ত্রকারী বলা যায় না। প্রমাণহীন অভিযোগ বিচারব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারে বলেও পর্যবেক্ষণ আদালতের।
মণীশ সিসোদিয়ার ক্ষেত্রেও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের নির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি বলে জানানো হয়েছে। আদালতের বক্তব্য, উপস্থাপিত নথি ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার ইঙ্গিতই বেশি স্পষ্ট হয়েছে, অপরাধমূলক যোগসাজশের নয়।
আরও পড়ুন-দিল্লির নির্দেশে বিশ্বমঞ্চে অভিষেক! মোদী সরকারের ‘মাস্টারস্ট্রোক’, বড় দায়িত্বে একঝাঁক বিরোধী নেতা
মামলার প্রেক্ষাপট
দিল্লির আবগারি নীতি প্রণয়ন নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। প্রায় ১০০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে কেজরীবাল ও সিসোদিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। এই ইস্যুই দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মামলার প্রভাব নির্বাচনী ফলাফলেও পড়ে।
তদন্তে কোথায় ঘাটতি?
আদালত জানিয়েছে, আবগারি নীতি তৈরির আগে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থা যে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল, তা প্রমাণ করার মতো নির্ভরযোগ্য ও সুসংহত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে আম আদমি পার্টির সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কেজরীবাল আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর স্ত্রী সুনীতা কেজরীবাল বলেন, “সত্যের জয় হয়েছে।”
এই রায়কে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়বে, তা সময়ই বলবে।





