কাশ্মীর ভারতেরই ভূখণ্ড, পাকিস্তানের দাবি কার্যত খারিজ করল আমেরিকা; অস্বস্তিতে ইসলামাবাদ
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক ঃ জম্মু ও কাশ্মীর যে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ—এই অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের দাবিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে আমেরিকার সরকারি নথিতে ভারতের পূর্ণ মানচিত্র প্রকাশ্যে আসতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে পাকিস্তান।
সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (USTR) ভারতের একটি মানচিত্র-সহ গ্রাফিক্স প্রকাশ করে। সেখানে ভারতের উত্তর সীমান্তে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর-কে ভারতের অংশ হিসেবেই দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, মানচিত্রে পাকিস্তানের অবৈধভাবে দখল করে রাখা অংশ—পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরও ভারতের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এটি কোনও কাকতালীয় বিষয় নয়। বরং বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকেই তুলে ধরেছে ওয়াশিংটন। এর মাধ্যমে আমেরিকা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কাশ্মীর ইস্যুতে তারা ভারতের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গেই সহমত।
আরও পড়ুন- ইসলামাবাদে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মৃত ৩১, আহত ১৬৯
পাকিস্তানের কূটনৈতিক অস্বস্তি
এই ঘটনাকে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছে ইসলামাবাদ। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একাধিকবার ওয়াশিংটন সফর করে মার্কিন প্রশাসনের কাছে তদবির চালান।
তবে এত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পরও কাশ্মীর প্রশ্নে পাকিস্তানের দাবিকে কোনও গুরুত্ব দেয়নি আমেরিকা। কয়েক দশক ধরে ইসলামাবাদ যে আঞ্চলিক দাবি তুলে আসছে, তা মান্যতা পায়নি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণও স্পষ্ট হচ্ছে। ক্রমশ এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, সেনাপ্রধান আসিম মুনির নির্বাচিত সরকারের প্রভাবকে পাশ কাটিয়ে নিজেকে দেশের প্রধান ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন।
মার্কিন স্বার্থ থাকলেও কাশ্মীরে অনড় অবস্থান
এটা ঠিক যে, পাকিস্তানে এখনও আমেরিকার বিভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে—বিশেষত বিরল খনিজ সম্পদ এবং সামরিক সরঞ্জাম সংক্রান্ত ব্যবসায়। কিন্তু সেই স্বার্থ রক্ষার জন্য কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কোনও যুক্তি খুঁজে পায়নি ওয়াশিংটন। এই ঘটনাই তার স্পষ্ট প্রমাণ।
কূটনৈতিক মহলের মতে, বার্তাটি পরিষ্কার—পাকিস্তান আমেরিকার কাছে একটি আগ্রহের ক্ষেত্র হতে পারে, কিন্তু ভারতের কোনও বিকল্প নেই। দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে।
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপট
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই মানচিত্রটি প্রকাশিত হয়েছিল ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি গ্রাফিক্সের অংশ হিসেবে। সেখানে দেখানো হয়েছে, নতুন যৌথ কাঠামোর অধীনে ভারত যেসব মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাস করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন গাছের বাদাম, লাল জোয়ার, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, শুকনো ডিস্টিলার্স গ্রেইন, পাশাপাশি আমেরিকান ওয়াইন ও স্পিরিটস।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনও ভারতের রপ্তানির ওপর শুল্ক বড় মাত্রায় কমাতে রাজি হয়েছে। মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হবে এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বাণিজ্য ও কূটনীতির এই সমীকরণে কাশ্মীর প্রশ্নে আমেরিকার অবস্থান আরও একবার ভারতের পক্ষেই গেল—যা ইসলামাবাদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণ।





