শঙ্কর চক্রবর্তী , news bazar24, ১৫ নভেম্বর ,২০২৫ঃ
হিন্দুদের দের দেব দেবিদের মধ্যে কার্তিক ঠাকুর হলেন দেবতাদের সেনাপতি, তাই তাঁকে দেব সেনাপতি বলা হয়ে থাকে। হিন্দু পুরাণ মতে তিনি পরাক্রম, শৌর্য ও ঐশ্বর্যের প্রতীক। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কার্তিকের আরাধনায় পুত্র সন্তান প্রাপ্তি হয়, সংসারে সমৃদ্ধি আসে এবং পরিবারের শ্রীবৃদ্ধিও ঘটে। তবে এই কার্তিকের আরাধনা দুই বাংলাতেই বেশি হয়ে থাকে।
জানেন কার্তিকের জন্ম কিভাবে হয়েছিল?
শিব পুরাণ মতে, অসুর তারকাসুরের বধের জন্যই জন্ম হয় কার্তিকের। তারকাসুরের অত্যাচারে দেবতারা যখন বিপর্যস্ত, তখন শিব-পার্বতীর প্রার্থনা শুরু করেন দেবতারা। কথিত আছে, শিবের তেজ বা বীর্য পৃথিবীতে নিক্ষিপ্ত হলে তা অগ্নিদেব গঙ্গায় নিক্ষেপ করেন।
গঙ্গা সেই তেজ ধারণ করে শরবনে এক রূপবান শিশুর জন্ম দেয় , আর তিনিই হলেন কার্তিক। কৃত্তিকাগণ ও বজ্রজ্বালার স্তন্য পান করার কারণে তাঁর নাম হয় ‘কার্তিক’। এই কার্ত্তিক শিব পার্বতীর বড় পুত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে ।
কার্তিক ঠাকুরের জন্মের উদ্দেশ্য:
অসুর সম্রাট তারকাসুরকে বধ করাই ছিল কার্তিকের জন্মলক্ষ্য। দেবতারা যেখানে পরাজিত, সেখানে অজেয় শক্তির অধিকারী কার্তিক দৈববলে ও হর গৌড়ীর শক্তি প্রাপ্তিতে সেই অসুরকে বধ করেন। ফলে তিনি হন দেব সেনাপতি, দেবতাদের সর্বাধিনায়ক।স্কন্ধ পুরাণে তাঁর বীরত্বের সবিস্তার বর্ণনা রয়েছে। আপনারা পরতে পারেন ।
কার্তিক ঠাকুরের স্ত্রী কে ছিলেন?
কার্তিকের বিয়ে নিয়ে হিন্দু পুরানে মতভেদ আছে । পৌরাণিক মতভেদ অনুযায়ী, কোথাও তিনি চিরকুমার, আবার কোথাও তিনি বিবাহিত। কিছু পুরাণে উল্লেখ আছে, তিনি দেবরাজ ইন্দ্রের কন্যা দেবসেনা-কে বিবাহ করেন। কেও বলেন কার্তিকের দুজন স্ত্রী হলেন দেবসেনা ও বল্লী ।
দক্ষিণ ভারতে দেবসেনাকে ইন্দ্রের দত্তক কন্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়,তাঁর অন্য নাম দেবায়নাই বা ভালি।
কার্তিক পুজোর বিশেষত্ব:
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গৌরবাজারে বিগত ১৬৬ বছর ধরে পাল পরিবারের কার্তিক পুজো হয়ে আসছে। এখানে তিন কার্তিকের পূজা হয় — বড় কার্তিক, মেজো কার্তিক ও ছোটো কার্তিক। জমিদার জয়নারায়ণ পাল, শ্যাম পাল ও লক্ষ্মীনারায়ণ পাল স্বপ্নাদেশ পান,
যদি তাঁরা তিন ভাই মিলে কার্তিক পুজো করেন, তাহলে সন্তান লাভ হবে। পরবর্তীতে তাঁদের পরিবারের প্রত্যেকের ঘরে সন্তান জন্ম নেয়, এবং সেই থেকেই এই পুজো আজও পালিত হয়ে আসছে। আবার মালদার ইংরেজ বাজারের রায় পরিবারে প্রায় ১০০ বছর ধরে কার্ত্তিক পুজা হয়ে আসছে । এই পুজা উপলক্ষে ১৫ দিন ধরে মেলা চলে । এখানকার কার্ত্তিক প্রায় ১২ ফিটের হয় । এবং কার্তিকের সাথে সব দেবির পুজা হয়।
মা বোল্লা কালী!পশ্চিম বঙ্গের ঐতিহাসিক কালীপুজো, জানুন ইতিহাস
লোকের বাড়িতে কার্তিক ফেলার লোকাচার:
পুরানে কোথাও উল্লেখ নেই এই প্রথা । তবে গ্রাম বাংলায় বিশেষ ভাবে দক্ষিন বঙ্গে প্রচলিত এই প্রথায়, নববিবাহিত বা নিঃসন্তান দম্পতির বাড়িতে কার্তিক ঠাকুর ফেলে আসা হয়। পাড়ার লোকেরা বা ছেলেরা এই কার্ত্তিক ফেলে আসে। বিশ্বাস করা হয়, এতে তাঁদের ঘরে পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবেঁ কার্ত্তিক ফেললেই সেই বাড়ির লোককে পুজা করতে হয় , আর পুজা করলেই প্রসাদ খাওয়া ,এই বদমাশি করেও কার্ত্তিক ফেলা হয়ে থাকে। এখন এই লোকাচার বাংলার সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এখনো বহমান। তবে মোবাইলের যুগে এই প্রথা ক্রমশ হ্রাস পেতে চলেছে ।
কার্তিকের রূপ ও অন্যান্য নাম –
কার্তিকের গায়ের রং হলুদ, বাহন ময়ূর, হাতে থাকে ধনুক, তীর ও বর্ষা। পরনে ধুতি ।
তাঁর ছয়টি মাথা — তাই তাঁকে বলা হয় ষড়ানন। অন্য নামগুলি— অম্বিকেয়, কৃত্তিকাসুত, কুমার, দেবসেনাপতি, গৌরীসুত, শক্তিপানী।
ভারতের দাবার জগতে নতুন তারা দৃষ্টিহীন কিশান গাঙ্গোলী
এক নজরে-
-
কার্তিকের আরাধনায় পুত্রসন্তান ও সমৃদ্ধি লাভ হয়
-
তারকাসুর বধের জন্য জন্ম দেব সেনাপতির
-
স্ত্রী দেবসেনা (ইন্দ্রের কন্যা)
-
বর্ধমানের গৌরবাজারে ১৬৬ বছরের প্রাচীন তিন কার্তিক পুজো
-
কার্তিক ফেলার লোকাচার এখনও জনপ্রিয়
-
কার্তিকের বাহন ময়ূর, রূপে ষড়ানন দেবতা






