রাতের অন্ধকারে আম–লিচু বাগানে চলছিল ব্রাউন সুগার তৈরির কারখানা, কালিয়াচকে পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৫, উদ্ধার দুই কোটির মাদক
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ মালদা জেলার কালিয়াচক থানা এলাকায় গভীর রাতে চলছিল ব্রাউন সুগার তৈরির কাজ। গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়ে আচমকা অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় পাঁচজন মাদক কারবারিকে।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে ২ কেজি ৪০০ গ্রাম ব্রাউন সুগার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য দুই কোটি টাকারও বেশি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াচকের শেরশাহী এলাকার মহেশপুর নয়াগ্রাম অঞ্চলে। পুলিশ জানায়, রাতের অন্ধকারে একটি আম ও লিচু বাগানের ভেতরে জড়ো হয়ে কয়েকজন মাদক কারবারি কাঁচামাল থেকে ব্রাউন সুগার তৈরির কাজ করছিল। সেই সময়ই পুলিশ সেখানে হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।
ধৃতরা হল শেরশাহী এলাকার বাসিন্দা মোঃ তসলিম শেখ, আব্দুল্লাহ শেখ, রাজীব শেখ ও মহম্মদ তাজেল শেখ। পাশাপাশি ইমামজায়গী এলাকার বাসিন্দা মুরসেলিম শেখকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি কন্টেনারসহ বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার বাজেয়াপ্ত করে।
পুলিশি অভিযানের সময় যারা পালিয়ে গিয়েছে, তাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। পলাতকদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল চত্বরে কুকুরের মুখে সদ্যোজাতের কাটা মাথা, তীব্র চাঞ্চল্য জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে
ধৃতদের আজ মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন জানিয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই মাদক তৈরির চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, কাঁচামাল কোথা থেকে আনা হচ্ছিল এবং তৈরি হওয়া ব্রাউন সুগার কোথায় সরবরাহ করা হতো—তা জানা যাবে।
এ বিষয়ে মালদা জেলার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মনিপুর, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের মতো প্রতিবেশী রাজ্য থেকে মাদকের কাঁচামাল এনে কালিয়াচকের বিভিন্ন এলাকায় ব্রাউন সুগার তৈরির একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে।
তিনি বলেন, গত দুই মাসে জেলাজুড়ে ৯০ জনেরও বেশি মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে ৪০ কেজিরও বেশি ব্রাউন সুগার।
পুলিশ সুপার আরও স্পষ্ট করে জানান, মাদক কারবারের নেপথ্যে যারা রয়েছে এবং এই মাদক কোথায় সরবরাহ করা হতো, তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।





