যুবসাথী আবেদন জমা ঘিরে কালিয়াচক–৩ ব্লকে তীব্র উত্তেজনা
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন জমা দেওয়া নিয়ে মালদার কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লক চত্বরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ব্লক অফিসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দেওয়ার পরেও রিসিভ কপি না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বহু যুবক-যুবতী। তাঁদের অভিযোগ, আবেদন নেওয়া হলেও কোনও প্রাপ্তিস্বীকার (রিসিভ) দেওয়া হচ্ছে না, ফলে ভবিষ্যতে আবেদন গৃহীত হয়েছে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল থেকেই বহু আবেদনকারী ব্লক অফিসে ভিড় জমিয়েছিলেন। কারও হাতে ফর্ম, কারও হাতে প্রয়োজনীয় নথি—চাকরির আশায়, সামান্য আর্থিক সহায়তার আশায় বহু যুবক-যুবতী হাজির হন। কিন্তু আবেদন জমা দেওয়ার পর রিসিভ কপি না দেওয়ায় শুরু হয় প্রশ্নোত্তর ও বাকবিতণ্ডা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন-আকাশপথে মাদক কাঁচামাল পাচার! মালদায় পুলিশের জালে আন্তঃরাজ্য ব্রাউন সুগার চক্র
আবেদনকারী জয়ন্ত মণ্ডলের দাবি, “রিসিভ না পেলে আমরা প্রমাণ করব কীভাবে যে আবেদন জমা দিয়েছি? পরে যদি নাম না ওঠে, তাহলে দায় নেবে কে?” তাঁদের আরও অভিযোগ, জেলার অন্যান্য ব্লকে সার্ভার সমস্যার মধ্যেও রিসিভ কপি দেওয়া হচ্ছে, তাহলে কালিয়াচক–৩ ব্লকে কেন তা সম্ভব হচ্ছে না?
ঘটনাকে ঘিরে আরও বিতর্ক তৈরি হয় যখন অভিযোগ ওঠে, প্রশাসনিক কর্মীদের চেয়ারে বসে থাকা এক পঞ্চায়েত সদস্য নাকি উত্তেজনার মাঝে আবেদনপত্র ছিঁড়ে ফেলার কথা বলেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, তবুও ওই মন্তব্য ঘিরে উপস্থিত যুবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
অন্যদিকে ব্লক প্রশাসনের কর্মীদের বক্তব্য, সার্ভারজনিত প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেই রিসিভ কপি তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের দাবি, “সিস্টেম আপডেট হলেই সমস্ত আবেদন নথিভুক্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় রিসিভ দেওয়া হবে। আবেদনকারীদের কোনও ক্ষতি হবে না। যদিও এই বিষয়ে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক সুকান্ত শিকদার-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও লিখিত বিবৃতিও জারি করা হয়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বাড়ছে বলে মত আবেদনকারী যুবকদের একাংশের।
তবে আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না অনেকেই। তাঁদের কথায়, বেকারত্বের চাপ, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা—এই পরিস্থিতিতে একটি রিসিভ কপিই ভরসা। সেটুকু না পেলে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ ও ক্ষোভ তৈরি হয়।
ঘটনার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও ব্লক চত্বরে চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে। প্রশাসন ও আবেদনকারীদের মধ্যে আস্থার সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলেই মত স্থানীয়দের। এখন দেখার, দ্রুত সমাধান না হলে এই ক্ষোভ আরও বড় আকার নেয় কি না।





