Newsbazar24 :কালী পুজোয় টুনি বাল্ব, রকমারি মোমবাতির রমরমায় পিছিয়ে পড়ছিল মাটির প্রদীপ। দিনে দিনে কমছিল মাটির প্রদীপের চাহিদা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে দিন বদলাচ্ছে। কালীপুজোয় ফের বাড়ছে প্রদীপের চাহিদা। প্রদীপের এই ফিরে আসা কতটা স্থায়ী হবে এখনই বলা কঠিন। তবে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে প্রদীপ যতটা জড়িয়ে আছে, সেই বিচারে টুনি বা মোমবাতী কিন্তু নেহাতই শিশু।
মালদা জেলার পুরাতন মালদা ব্লকের রশিলাদহ মণ্ডলপাড়ায় মৃত্ শিল্পীদের মধ্যে প্রচন্ড ব্যস্ততা। তারা বিভিন্ন সাইজের মাটির প্রদীপ তৈরি করতে ব্যস্ত। মালদা জেলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা তো বটেই এখানকার মাটির তৈরি প্রদীপ ভিন্ন রাজ্যেও পাড়ি দেয়।
রশিদাদহ মণ্ডলপাড়ায় বেশ কয়েকটি পদ্ধতিতে মেশিন ও হাত চরচাকায় তৈরি হচ্ছে মাটির প্রদীপ। সারা বছরই মাটির গ্লাস সহ আর বেশ কিছু মাটির সামগ্রী বিক্রি হয়, তবে কালী পুজোর আগে থেকেই প্রদীপ, ঘট এসবের বিক্রি বাড়ে।
শিল্পী গৌড় চন্দ্র পালের জানান, ‘পূর্বপুরুষের আমল থেকে এই ব্যবসা আমরা করে আসছি। তবে আগামী প্রজন্ম এই ব্যবসা আর করবে না কারণ যে হারে পরিশ্রম তাতে সেভাবে মজুরি পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি মাটিও এখন ঠিকভাবে পাওয়া যায় না আর যদিও পাওয়া যায় ,চড়া দামে কিনতে হয়।’
শিল্পী অলি পাল বলেন, ‘আমরা কোনও রকম ভাবে সরকারের কাছ থেকে সরকারি কোনও ভাতা পাই না শুধুমাত্র মাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সরকার দেয়, তবে এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে যা টাকা পায় সে টাকা দিয়ে সংসার কী করে চলবে! সরকারি সাহায্য পেলে এই ব্যবসা আরও বেশি ভালো হয়ে করা যাবে।’
তবে, সামনে দীপাবলি, কালী পুজো। সেক্ষেত্রে অন্যান্য বারের থেকেও এবারে চাহিদা মাটির প্রদীপের। বাজারে যতই ইলেকট্রিকের প্রদীপ, টুনি বাল আসুক না কেন মাটির প্রদীপের চাহিদা আগেও যেমন ছিল বর্তমানে তেমন রয়েছে, এর প্রভাব পড়েনি। মালদা জেলার পাশাপাশি প্রতিবেশী জেলাগুলিতেও মালদার প্রদীপ যায়। এছাড়াও বাংলার বাইরে অন্য রাজ্যগুলিতেও মালদার প্রদীপ যায়।





