Newsbazar24:পূর্ব ভারতে এর নাম ভূত চতুর্দশী হলেও, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একে নরক চতুর্দশীও বলা হয়ে থাকে। দক্ষিণ ভারতে বিশেষ করে গোয়া, তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকে যখন নরক চতুর্দশী সাড়ম্বরে পালিত হয় বাংলায় তখন ভূত চতুর্দশী পালন হয়। পূরাণ অনুযায়ী মনে করা হয়, এই দিন স্বর্গ ও নরকের দ্বার কিছু ক্ষণের জন্য উন্মোচিত হয়। একই সঙ্গে বিদেহী আত্মা এবং স্বর্গত ব্যক্তিরা নেমে আসেন পৃথিবীতে।
ভূত বলতেই সাধারণত সকলের মনে ভয় উদ্রেককারী কোনও অজানা অশরীরির কথাই আগে মাথায় আসে। বাংলায় ভূত চতুর্দশীর সঙ্গে কিন্তু এর সম্পর্ক নেই। তবে অন্য দিক থেকে দেখতে গেলে সম্পর্ক রয়েছেও। ভূত মানে প্রাক্তন বা পূর্ব বোঝায়। অর্থাৎ যা অতীতে ছিল, বর্তমানে নেই। এ ক্ষেত্রে ভূত বলতে পূর্ব পুরুষদের কথা বোঝানো হয়। একই সঙ্গে ১৪ শাক এবং ১৪ প্রদীপেরও মাহাত্ম্য রয়েছে এই রীতির সঙ্গে।
হিন্দু ধর্ম মতে মৃত্যুর মানব দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে পাঁচ উপাদানের মধ্যেই মিশে থাকেন। তাই প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করা ১৪ রকমের শাক মৃত ১৪ পুরুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। ১৪ শাক ধোয়ার পর সেই বাড়ির প্রতিটি কোনে ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রেত ও অশুভ শক্তি দূর করতে বাঙালি গৃহস্থরা এই দিন সন্ধেয় বাড়িতে ১৪ টি প্রদীপ জ্বালিয়ে থাকেন।এই সময় (১)ওল, (২)কেও, (৩)বেতো, (৪)কালকাসুন্দা, (৫)নিম, (৬)সরষে, (৭)শালিঞ্চা, (৮)জয়ন্তী, (৯)গুলঞ্চ, (১০)পলতা, (১১)ঘেঁটু, (১২)হিঞ্চে, (১৩)শুষুনী, (১৪)শেলু এই চৌদ্দটি শাক একত্রে খাওয়া হয়।



