ডিজিটাল ডেস্ক, নিউজ বাজার২৪ঃ আফগানিস্তানের রাজধানী Kabul–এ ফের রক্তক্ষয়ী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। সোমবার কাবুলের শহর-এ-নওয়া (Shahr-e-Naw) এলাকায় ঘটে যাওয়া এক জোরালো বিস্ফোরণে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আফগানিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী Taliban–এর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র আবদুল মতিন কানি সংবাদ সংস্থা Reuters–কে জানান, “প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিস্ফোরণে একাধিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
কাবুলের অন্যতম নিরাপদ এলাকায় বিস্ফোরণ
শহর-এ-নওয়া এলাকা কাবুলের একটি অভিজাত ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে বহু বিদেশি নাগরিক, কূটনৈতিক সংস্থা, আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার কর্মী এবং ব্যবসায়ীরা বসবাস করেন। সাধারণত এই এলাকাকে কাবুলের সবচেয়ে নিরাপদ অঞ্চলগুলির একটি হিসেবে ধরা হয়। ফলে এই এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু দোকান ও বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায়। বিস্ফোরণের পরপরই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
পাকিস্তানে ফের ভয়াবহ দুর্ঘটনা, এক দিনে প্রাণ গেল অন্তত ৩০ জনের
তদন্ত শুরু, আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ
এই বিস্ফোরণের পিছনে কারা রয়েছে এবং এটি আত্মঘাতী হামলা নাকি আইইডি বিস্ফোরণ—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তালিবান প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে নিরাপত্তা বাহিনী তৎপরতা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, তালিবান ক্ষমতায় আসার পর একাধিকবার কাবুল ও অন্যান্য শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট খোরাসান (আইএস-কে)। ফলে নতুন করে জঙ্গি হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
এই ঘটনায় কাবুলের সাধারণ মানুষের মধ্যে ফের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বহু মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, তালিবানের কড়া নিরাপত্তার দাবির মধ্যেও কীভাবে রাজধানীর তথাকথিত নিরাপদ এলাকায় এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটল।
ঘটনার পর পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে তালিবান প্রশাসন। নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।





