ফলের আগে সৌজন্যের রাজনীতি, নজর কাড়ছে এই উদ্যোগ
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , ঝাড়গ্রাম: রাজনীতিতে হার-জিত তো লেগেই থাকে, কিন্তু গণতন্ত্রের আসল কারিগর হলেন সাধারণ মানুষ। ভোট গণনার ঠিক প্রাক্কালে সেই ‘গণদেবতা’ অর্থাৎ ভোটারদেরই কুর্নিশ জানালেন ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লক্ষীকান্ত সাউ। রবিবার সন্ধ্যায় ঝাড়গ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচমাথার মোড়ে এক বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের ধন্যবাদ জানান তিনি। আগামী ৪ মে ফলাফল কী হবে, তা নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে টানটান উত্তেজনা, ঠিক তখনই প্রার্থীর এই সৌজন্যমূলক আচরণ নজর কেড়েছে ঝাড়গ্রামবাসীর।
গণতন্ত্রের উৎসবে ভোটারদের অভিনন্দন
এদিন সন্ধ্যায় ঝাড়গ্রাম শহরের পাঁচমাথার মোড়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে উপস্থিত হয়ে লক্ষীকান্ত সাউ সাধারণ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, গণতন্ত্রের সবথেকে বড় শক্তি হলো ভোটদান প্রক্রিয়া। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বুথে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, এটাই সবথেকে বড় জয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে প্রার্থীর বার্তা ,ফলাফল যাই হোক, ঝাড়গ্রামের মানুষ যেভাবে গণতন্ত্রের এই উৎসবে শামিল হয়েছেন, তার জন্য আমি তাঁদের কাছে চিরঋণী। ভোটাররাই হলেন প্রকৃত গণদেবতা। তাঁদের আশীর্বাদ ও সমর্থনই আমাদের কাজের অনুপ্রেরণা।
আরও পড়ুন-মেদিনীপুরের গর্ব! ICSE-তে ৪৯৮ পেয়ে দেশে সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঋতব্রত, ৪ বিষয়ে ১০০-তে ১০০
উপস্থিত ছিলেন জেলা নেতৃত্ব
ধন্যবাদ জ্ঞাপন এই কর্মসূচিতে প্রার্থীর পাশে থেকে মনোবল বাড়াতে দেখা যায় জেলা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে। উপস্থিত ছিলেন জেলা বিজেপি সভাপতি তুফান মাহাত-সহ দলের অন্যান্য জেলা পদাধিকারীরা। তুফানবাবুও ভোটারদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান এবং দাবি করেন যে, মানুষের এই সমর্থন আগামী দিনে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সৌজন্যের বার্তা
সাধারণত ভোট মিটে যাওয়ার পর প্রার্থীরা সরাসরি গণনাকেন্দ্রে বা দলীয় কার্যালয়ে রণকৌশল ঠিক করতে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু ফল ঘোষণার আগেই এভাবে রাস্তায় নেমে ভোটারদের ধন্যবাদ জানানোকে এক অভিনব রাজনৈতিক সৌজন্য হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
লক্ষীকান্ত সাউয়ের কথায়, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গুঞ্জন তো থাকবেই, কিন্তু সাধারণ মানুষের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধির কর্তব্য। ফলাফলের আগে এই ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ কার্ড ঝাড়গ্রামের মানুষের মনে প্রার্থীর ভাবমূর্তি কতটা উজ্জ্বল করল, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।


