নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ প্রথমে দেখেই আঁতকে ওঠেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। নিজের চোখকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না কেউ। হাসপাতাল চত্বরে একটি কুকুরের মুখে সদ্যোজাত শিশুর কাটা মাথা—এমন ভয়াবহ দৃশ্য ঘিরে শনিবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে।
ঘটনাটি ঘটে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের অধীনস্থ মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব চত্বরে। বিকেলের দিকে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের কয়েকজন আত্মীয় প্রথমে লক্ষ্য করেন, একটি কুকুর মুখে কিছু নিয়ে হাসপাতাল এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা কুকুরটিকে তাড়া করেন। তখনই হাসপাতাল চত্বরের একটি ফাঁকা জায়গায় কুকুরটি সদ্যোজাত শিশুর কাটা মাথাটি ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
বেলডাঙ্গার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বিস্ফোরক তত্ত্ব
এই ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পুলিশ শিশুর মাথাটি উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন রোগীর পরিজনরা। তাঁদের দাবি, হাসপাতাল চত্বরে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর আত্মীয় রমা নায়েক বলেন, “আমি আমার ছেলের জন্য খাবার কিনতে হাসপাতালের বাইরে যাচ্ছিলাম। তখন দেখি একটি কুকুর মুখে কিছু নিয়ে ঘুরছে। কাছে যেতেই দেখি, কুকুরের মুখে একটি বাচ্চার মাথা। আমি ভয় পেয়ে যাই এবং সঙ্গে সঙ্গে গার্ডকে বিষয়টি জানাই।”
অন্য এক রোগীর আত্মীয় মৃণাল রায় বলেন, “আমরা কুকুরের মুখে শুধু শিশুর মাথাটাই দেখেছি। তাহলে শিশুর দেহের বাকি অংশ কোথায়? সেটাই আমাদের বড় প্রশ্ন।”
বুনো হাতির তাণ্ডবে নষ্ট কয়শ বিঘা আলু জমি, চরম ক্ষতির মুখে চন্দ্রকোণার কৃষকরা
যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গাফিলতির অভিযোগ খারিজ করেছে। জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি (MSVP) ডা. কল্যাণ খাঁ জানান, “হাসপাতালের গাফিলতির কোনও প্রশ্নই ওঠে না। মৃত শিশু প্রসব হলে নিয়ম অনুযায়ী দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কেউ দেহ গ্রহণ না করলে তা মর্গের ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে জানানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।





