নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক ঃ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরে শুক্রবার ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি আহতের সংখ্যা ১৬৯ ছাড়িয়েছে। বিস্ফোরণের পর গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি ঘটে শহরের শেহজাদ টাউন এলাকায়। বিস্ফোরণের খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। শুরু হয় দ্রুত উদ্ধারকাজ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
আহতদের দ্রুত পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস ও দ্য পলিক্লিনিক হাসপাতাল-এ নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালগুলিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশে নির্বাচন, ‘প্রহসন’ বলে ভোট বয়কটের ডাক সজীব ওয়াজেদ জয়ের
ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বিস্ফোরণের একাধিক ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের পর আতঙ্কে মানুষজন এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছেন। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।
ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরি পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের প্রকৃতি এখনও স্পষ্ট নয়। এটি আত্মঘাতী হামলা কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে ফরেনসিক তদন্ত চলছে।
এই ঘটনার সময়েই শাভকত মিরজিইয়োইয়েভ পাকিস্তান সফরে রয়েছেন, ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী বলেন, এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জাতির মনোবল ভাঙতে পারবে না। শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে সন্দেহের তীর তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান অথবা ইসলামিক স্টেট-এর দিকে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর আগে সংঘর্ষে বহু পাক সেনার মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিস্ফোরণ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।





