উত্তপ্ত ইরান: সরকার বিরোধী বিক্ষোভের মাঝে মার্কিন নাগরিকদের ‘এখনই দেশ ছাড়ুন’ নির্দেশ, ট্রাম্পের কড়া বার্তা
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান জুড়ে ক্রমেই উত্তাল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। সরকার বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও ধরপাকড়ের আবহে এবার বড় সতর্কবার্তা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানে মার্কিন দূতাবাসের তরফে সোমবার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—“এখনই ইরান ছাড়ুন”।
মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশ
সূত্রের খবর, মার্কিন দূতাবাসের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ত্যাগ করা উচিত। সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। বিক্ষোভের জেরে—
হঠাৎ গ্রেপ্তার ও আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে
একাধিক জায়গায় রাস্তা বন্ধ
গণপরিবহন পরিষেবা ব্যাহত
মোবাইল, ল্যান্ডলাইন ও ইন্টারনেট পরিষেবা অনেক এলাকায় সীমিত
বহু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান হয় দেরিতে চলছে, নয়তো বাতিল করা হচ্ছে
- আরও পড়ুন-মৃতদেহের মাংস খাওয়ার জন্যই খুন! দিনহাটায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের
আকাশপথে সমস্যা, স্থলপথে বিকল্প রুট
মার্কিন নাগরিকদের জন্য দূতাবাস জানিয়েছে, বিমান পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় প্রয়োজনে স্থলপথে ইরান ছাড়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে। নির্দেশিকায় বিশেষভাবে বলা হয়েছে—
আর্মেনিয়া ও তুরস্ক হয়ে ইরান ত্যাগ করার পথ খোলা রাখা যেতে পারে
পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ
ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি
এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই বড় মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের নেতারা গতকাল ফোন করেছিলেন। ওরা আলোচনায় বসতে চায়। একটি বৈঠকের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।”
তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আলোচনার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। তাঁর কথায়, আমাদের হয়তো বৈঠকের আগেই কাজ করতে হবে।
বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ
ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এমন অনেক মানুষ মারা পড়ছেন, যাদের মরার কথা নয়। ইরানের শাসকদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন,এরা কি আদৌ নেতা? নাকি শুধুই হিংসার জোরে শাসন চালায়?
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে এক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তার হাতে এক ৩৭ বছরের মহিলার মৃত্যুর ঘটনাকে সমর্থন করেছিল—যা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক তৈরি হয়।
আরও পড়ুন-আবেদন করলেই মিলবে ১৫ হাজার টাকা!প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা প্রকল্পে ৩ লক্ষ টাকার ঋণের সুযোগ
রেড লাইন’ প্রসঙ্গে রহস্য বজায়
ইরান কি কোনও ‘রেড লাইন’ পার করেছে?—এই প্রশ্নে ট্রাম্প কোনও নির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনার কথা বলতে চাননি। উল্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,আপনি কি চান আমি বলে দিই কোথায় হামলা হবে, কখন হবে, কোন দিক থেকে হবে?এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবেই নিজেদের কৌশল প্রকাশ্যে আনছে না।
আন্তর্জাতিক মহলের নজর
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলেও। সরকার বিরোধী বিক্ষোভ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং মার্কিন সতর্কবার্তা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।





